পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের মেয়েরাও...

১৯৯৯ সালে পুরুষদের ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়টি মাইলফলক হয়ে আছে। বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররাও পাকিস্তানকে হারিয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয়ের ইতিহাস গড়লেন। গতকাল নিউজিল্যান্ডের হ্যামিল্টনে নিজেরা ২৩৪ রান তুলে, লেগ স্পিন জুটি ফাহিমা খাতুন ও রুমানা আহমেদের ঘূর্ণিতে পাকিস্তানকে ২২৫ রানে বেঁধে উল্লাসে মাতেন।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ওয়ানডে ইনিংস ২৩৪-কে টপকানোর বেশ কাছেই চলে গিয়েছিল পাকিস্তান। ৪১ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ ১৭৯/২। ক্রিজে সিদ্রা আমিন ৮৯ রানে। এরপরই শুরু প্রত্যাবর্তনের গল্প। ৪২তম ওভারের শেষ বলে আঘাত হানেন ফাহিমা। পরের ওভারের তৃতীয় বলে রুমানার বলে ক্যাচ দেন নিদা দার (০)। পরের ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে দুটি এলবিডব্লিউতে (আলিয়া রিয়াজ ০, ফাতিমা সানা ০) হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছিলেন লেগ স্পিনার ফাহিমা। হ্যাটট্রিক হয়নি, তবে ওভারের শেষ বলে আবার সাফল্য পায় বাংলাদেশ। এবার রানআউট সিদরা নাওয়াজ (১)। ১৩ বলের মধ্যে ৫ রানে ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান। তবু পাকিস্তানি ওপেনার সিদ্রা আমিন একপ্রান্ত আগলে রেখে তার ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে চোখ রাঙাচ্ছিলেন জ্যোতিদের। ৪৮তম ওভারের পঞ্চম বলে দলীয় ২১৫ রানে সিদরা আমিনকে (১০৪ রান) রিতু মনি ও নাহিদা আক্তার মিলে রানআউট করলে ম্যাচ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। শেষ ১৩ বলে ১০ রানের বেশি নিতে পারেননি পাকিস্তানের দশ ও এগারো নম্বর ব্যাটার। ফাহিমা খাতুন ৩৮ রানে ৩ উইকেট নেন। দুটি উইকেট নেন রুমানা আহমেদ। এ ছাড়া একটি করে উইকেট পান জাহানারা আলম ও সালমা খাতুন।

জয়ের ভিতটা গড়ে দিয়েছিল ফারজানা হক পিংকি ও নিগার সুলতানা জ্যোতির ৯৬ রানের তৃতীয় উইকেট জুটি। ওপেনার শামিমা সুলতানা ১৭ রান করে ফিরলেও আরেক ওপেনার শারমিন আখতার ছয় বাউন্ডারিতে ৫৫ বলে ৪৪ রান করে যখন ফেরেন তখন (১৯.১ ওভার) দলের সংগ্রহ ৭৯। সেখান থেকে পিংকি-জ্যোতির জুটি শুরু। জুটি ভাঙে ৬৪ বলে ৪৬ রান করে জ্যোতি ফিরলে। পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে খেলা অধিনায়ক মাত্র একটি বাউন্ডারি মারেন। রুমানা দ্রুত রান তোলার তাগিদে ১৩ বলে ১৬ করে আউট হন। এই বিশ্বকাপের বাংলাদেশের প্রথম হাফসেঞ্চুরিয়ান পিংকি তার দ্বিতীয় ফিফটির ইনিংসটি খেলেছেন ১১৫ বলে। পিংকির ৫টি চারে সাজানো ৭১ রানের ইনিংস বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।

প্রতিপক্ষ হিসেবে পাকিস্তান সবচেয়ে পুরনো বাংলাদেশের। ২০১৪ সালে প্রথম ওয়ানডে খেলেছিলেন লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের বিপক্ষে এবং সে ম্যাচ জিতেছিলেন। গতকালের আগে ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বেও পাকিস্তানকে হারিয়েছিলেন জ্যোতিরা। সেই জয়টি দারুণ কাজে লেগেছে জানিয়ে প্রথম জয়ের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন অধিনায়ক। জয়ের পর অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি বলেন, ‘এ জয়ের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। বিশ্বকাপে আমাদের প্রথম জয়। আমরা ইতিহাস গড়েছি। এই জয়ের ধারাবাহিকতা আমরা সামনের ম্যাচগুলোতেও টেনে নিয়ে যেতে চাই।’ ম্যাচসেরা ফাহিমা খাতুন বলেন, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে আমরা সবসময় জেতার জন্যই খেলি। জেতার ক্ষুধাটা থাকে আমাদের। সেটাই আমরা আজকে চেষ্টা করেছি, পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোনোর এবং যথাযথ কাজে লাগাতে পেরেছি শেষ পর্যন্ত।’

১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারানোর ম্যাচটি টনিকের মতো কাজ করে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রসারে। পরবর্তীকালে বাংলাদেশ পায় টেস্ট স্ট্যাটাস। এবার নারী দলের বিশ্বকাপে প্রথম জয়টাও এলো পাকিস্তানের বিপক্ষে। নারী দলও অদূর ভবিষ্যতে আসবে বিশ্বসেরাদের কাতারে এটুকু প্রত্যাশা তো করাই যায়। বাকিটা সময়ই বলে দেবে। আপাতত পিংকিদের ভাবনা পরের চার ম্যাচ নিয়ে, ‘এই জয় অবশ্যই আমাদের অনেক অনুপ্রাণিত করবে। আমরা সবাই যদি একে অপরের সঙ্গে মিলে জুটি গড়ে যার যার কাজ সুন্দরভাবে করতে পারি, অবশ্যই সামনেও ভালো হবে আমাদের।’