নাপা সিরাপে ক্ষতিকর কিছু পাওয়া যায়নি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে একই পরিবারের দুই শিশু বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের যে নাপা সিরাপ খাওয়ার পর মারা গেছে সেই সিরাপের তিনটি ব্যাচের নমুনা পরীক্ষা করে ক্ষতিকর কিছু পায়নি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। তবে শিশু দুটি যে বোতলের সিরাপ খেয়েছিল, সেই বোতল জব্দ করে সিআইডি নিয়ে যাওয়ায় তার নমুনা পরীক্ষা করা হয়নি। ফলে শিশু দুটির মৃত্যুর কারণও জানা যায়নি।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর জানিয়েছে, শিশু দুটির মৃত্যুর কারণ এখনো উদঘাটিত হয়নি। শিশু দুটি কেন ও কী কারণে মারা গেছে, তা জানতে ভিসেরা ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

গতকাল সোমবার ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ ইউসুফ এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ওষুধের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, জনমনে বিভ্রান্তি ও অনাস্থা তৈরি হচ্ছে। এ অনাস্থা ভাঙার জন্যই সংবাদ সম্মেলন।

সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও পরিচালক মো. আইয়ুব হোসেন এবং অধিদপ্তর গঠিত দুই তদন্ত কমিটির প্রধান ও অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া ও ড. মো. আকিব হোসেন তদন্তের বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের দুর্গাপুর গ্রামের এক পরিবারের ৭ ও ৫ বছর বয়সী দুই ছেলের জ¦র হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় দোকান থেকে নাপা সিরাপ কিনে তাদের সেবন করায় পরিবার। এরপর তাদের বমি শুরু হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসপাতালে চিকিৎসক দেখিয়ে বাড়ি আনার পথে রাতে শিশু দুটি মারা যায়।

প্যারাসিটামল বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ওষুধগুলোর একটি। এর জেনেরিক ওষুধগুলোর মধ্যে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের তৈরি করা নাপা সবচেয়ে বেশি পরিচিত। যে ব্যাচের নাপা সিরাপ খাওয়ার পর শিশু দুটির মৃত্যু হয়েছে, ওই ব্যাচে ৮২ হাজার বোতল নাপা সিরাপ উৎপাদন করে সারা দেশে বাজারজাত করা হয়েছিল।

ঘটনার এক দিন পর গত শনিবার সারা দেশের পাইকারি ও খুচরা দোকান পরিদর্শন করে নাপা সিরাপের একটি ব্যাচের ওষুধ পরীক্ষা করার নির্দেশ দেয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। এ ঘটনায় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর গাজীপুরে বেক্সিমকোর কারখানা ও ফিল্ডের (আশুগঞ্জ) জন্য পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি করে। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় আরও তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

সংবাদ সম্মেলনে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, আশুগঞ্জের যে দোকান থেকে কেনা ওষুধ সেবনের পর শিশু দুটি মারা গেছে, সেই দোকান থেকে আটটি বোতল জব্দ করেন তারা। এছাড়া ডিপো থেকে আরও দুটি ব্যাচের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গত রবিবার এসব নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়, ফল পাওয়া যায় গতকাল দুপুরের পর।

মহাপরিচালক বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত তিনটি নমুনা পরীক্ষা করেছি। ড্রাগ টেস্টিং প্রোপাইলিন গ্লাইকল আছে আর ক্ষতিকারক উপাদান ডাইথাইলিন গ্লাইকল পাওয়া যায়নি। মাঠপর্যায় থেকে আরও যেসব নমুনা আসছে, সেগুলোও পরীক্ষা করা হচ্ছে। সেগুলোর ফল পরে জানাব। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা যে পরীক্ষা করেছি, পরীক্ষায় মান (নাপা সিরাপ) সঠিক পেয়েছি।’

যে বোতলের সিরাপ শিশু দুটিকে পান করানো হয়েছিল, তা পরীক্ষা হয়নি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ (সিআইডি) মামলার নমুনা হিসেবে সেটা নিয়ে গেছে। আমাদের দেয়নি। আমাদের দিলে আমরা তা পরীক্ষা করতে পারতাম। সিআইডির পরীক্ষার পর প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে, তারা (শিশু দুটি) নাপা সিরাপ খেয়েই মারা গেছে কি না। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। এছাড়া পোস্টমর্টেম রিপোর্টে জানা যাবে শিশু দুটি কেন মারা গেল।’