খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি এ তিন পার্বত্য জেলার অবৈধ ইটভাটা ধ্বংসের নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। গতকাল সোমবার এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি ফাতেমা নজীবের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। ছয় সপ্তাহের মধ্যে আদালতের এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে আদেশে। হাইকোর্টে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের দাখিল করা প্রতিবেদন অনুযায়ী এ তিন পার্বত্য জেলায় ১৩০টি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে।
তিন জেলায় বিভিন্ন ইটভাটা লাইসেন্স ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে এবং এতে পাহাড় কেটে মাটি ব্যবহারসহ বনের গাছ কেটে জ¦ালানি ব্যবহার হচ্ছে বলে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন এইচআরপিবি (হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ)। এতে পরিবেশ ও বন সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, তিন পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ ২৪ জনকে বিবাদী করা হয়। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট এক আদেশে সাতদিনের মধ্যে লাইসেন্সবিহীন ইটভাটা বন্ধের নির্দেশসহ ওই তিন জেলার অবৈধ ইটভাটার তালিকা দাখিলের নির্দেশ দেয়। গতকাল তিন জেলা প্রশাসনের পক্ষে হাইকোর্টে দাখিলকৃত প্রতিবেদনে বলা হয়, রাঙ্গামাটিতে ২৫টি, বান্দবানে ৭০টি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ৩৫টিসহ মোট ১৩০টি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে।
রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) অনুসারে লাইসেন্স ছাড়া কোনো ইটভাটা চলতে পারে না। নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে আইনের ১৪ ধারা অনুযায়ী দুই বছরের সাজার বিধান রয়েছে। কিন্তু আইন ও হাইকোর্টের নির্দেশনার পরেও পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় থাকা লাইসেন্সবিহীন ইটভাটার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বিবাদীদের (রিট মামলার বিবাদী) নিষ্ক্রিয়তার কারণে অবৈধ ইটভাটাগুলো চলছে। এতে করে পাহাড় ধ্বংস হয়ে পরিবেশের ওপর মারাত্মক ক্ষতিক্ষর প্রভাব পড়ছে। হাইকোর্ট শুনানি শেষে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে এই তিন জেলায় থাকা লাইসেন্সবিহীন সব ইটভাটা আদেশের ছয় সপ্তাহের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলেছে। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।