তেলের বাজার স্থিতিশীল দাম কমেছে পেঁয়াজের

হঠাৎ পেঁয়াজের দামের ঝাঁজ বেড়ে গেলেও এখন ফের কমতে শুরু করেছে। সপ্তাহ ব্যবধানে বাজারভেদে পেঁয়াজের দাম খুচরায় প্রতি কেজিতে ২০ টাকার মতো কমেছে। এক সপ্তাহ আগেও যে পেঁয়াজ ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে তা ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, পণ্যটির সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে। আর ক্রেতারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম কমায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

এদিকে পেঁয়াজের মতো ভোজ্য তেলের দাম না কমলেও সপ্তাহ ব্যবধানে বাড়েনি। হাতে গোনা কয়েকটি ছাড়া বেশিরভাগ সবজির দামই চড়া। ডিম, মাছ আর মাংসও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে।

গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ অন্যান্য বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পেঁয়াজের সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। মুড়িকাটা পেঁয়াজের পাশাপাশি বাজারে আরও আগাম বিভিন্ন জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, দাম পেয়ে অনেক কৃষক আগেভাগেই পেঁয়াজ তুলছেন। ফলে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি। এ ছাড়া গত কয়ক দিনে ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানিও বেশ ভালো। এসব কারণেই পেঁয়াজের দাম কমেছে।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতা নান্টু সিকদার দেশ রূপান্তরকে জানান, দেশি পেঁয়াজ এখন পাইকারিতে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে। চায়না রসুনের কেজি ১২০ টাকা। দেশি আদা ৯০ আর চায়না আদা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা দরে।

সপ্তাহ ব্যবধানে পাইকারি বজারে আলুর দাম কমলেও খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে প্রতি পাল্লা আলু বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা।

এ ছাড়া কমেছে টমেটোর দাম। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়; যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৪০-৫০ টাকা কেজিতে। অন্যান্য সবজি আগের মতোই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। শিম ৪০ থেকে ৫০, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, প্রতি পিস ফুলকপি ও বাঁধাকপির দাম বেড়ে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া শসা ৩০, গাজর ৩০, মুলা ২০ টাকা কেজি, শাকের আঁটি ৮ থেকে ১০ টাকা, চালকুমড়া ৪০ থেকে ৬০ টাকা পিস বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা। মরিচও বেশি দামে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা যায়। তবে করলার কেজি ১০০ টাকা বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে কয়েক সপ্তাহ ধরে অস্থির হয়ে ওঠা ভোজ্য তেলের বাজার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ভোজ্য তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে দুই স্তরে ২০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের পর আমদানি পর্যায়েও ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্তের কথা জানায় সরকার। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় তেল মজুদের বিরুদ্ধে অভিযানও হয়। এরপর থেকে বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ তুলনামূলক বাড়তে শুরু করেছে। বিক্রেতারাও নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রি করছেন।

আগের মতো এখন বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের চাল। মিনিকেট ৬৫ টাকা কেজি, বিআর-২৮ চাল ৪৭ থেকে ৪৯ টাকা, পারিজা ৪৪ থেকে ৪৬ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে।

সপ্তাহ ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়; যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১৬০-১৬৫ টাকায়। এ ছাড়া পাকিস্তানি কক মুরগি ৩২০, দেশি মুরগি ৫২০ থেকে ৫৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়।

আগের মতোই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকায়। এই বাড়তি দামের কারণ জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের মাংস বিক্রেতা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, চাইলে গরুর মাংস ৫৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি করা সম্ভব। কিন্তু ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজির কারণে গরুর মাংস বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। চাঁদাবাজি বন্ধ হলে মাংসর দামও কমে আসবে।

মাছের দাম আছে আগের মতোই। আকারভেদে রুই ও কাতল ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় সাইজের চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮০০-১০০০ টাকা কেজি দরে। ছোট চিংড়ি ৪০০-৬০০ টাকায়, চাষের শিং মাছ ৩০০, দেশি শিং ৬০০-৭০০ টাকা, চাষের কই ২৫০ টাকা, চাষের পাঙাশ ১৫০ টাকা, ট্যাংরা ৪০০-৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ ১ কেজির ওপরে ১২০০-১৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।