যশোরে এক কিশোরীকে জুতাপেটা ও মারধরের অভিযোগে ইউপি সদস্যসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
দুদিন আগে নির্যাতনের ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এ ঘটনায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এরপরই তৎপর হয় পুলিশ।
কিশোরীর বাবা এ ঘটনায় শনিবার কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের আব্দুলপুর গ্রামে। আটক ইউপি সদস্য আনিচুর রহমান ওই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।
১ মিনিট ২৯ সেকেন্ড এবং ৪৪ সেকেন্ডের দুটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, একটি দোকানের ভেতরে কিশোরীকে এলোপাতাড়ি জুতাপেটা করছে ইউপি সদস্য আনিচুর রহমান। তিনি লুটিয়ে পড়লেও ইউপি সদস্যর পাশে থাকা কয়েক যুবক লাথিও দেন। কিশোরীর সঙ্গে থাকা যুবককেও এলোপাতাড়ি মারধর করছে ইউপি সদস্য ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন যুবক। তারা বিভিন্ন লাঠি দিয়ে কিশোরীর হাতে ও পায়ে বেধড়ক মারপিট করেন।
যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ তাসমীম আলম জানান, ১৫ মার্চ সন্ধ্যার দিকে এক কিশোরী সদর উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামে একটি দরগাহ শরীফে অনুষ্ঠিত ওরস শরীফ থেকে এক যুবকের সাইকেলে তার বাড়ি আব্দুলপুরে আসেন।
এ সময় আব্দুলপুরের কয়েক যুবক তাদের আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে অনৈতিকতার অভিযোগ তুলে ইউপি সদস্য আনিচুরকে খবর দেয় এবং তাদেরকে একটি দোকানে আটকে রাখে।
ইউপি সদস্য আসার পর তিনি অভিযোগ শুনে ওই তাদেরকে মারধর করেন। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ওই গ্রামে গিয়ে ইউপি সদস্যসহ চারজনকে আটক করেছে। আটক অন্য তিনজন হলেন- আব্দুলপুর গ্রামের ভুট্টো, আজিম ও তৌহিদ।
কিশোরীর নানি বলেন, তার নাতনি এনায়েতপুরের ওরস থেকে আসার সময় সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় তার বন্ধুকে বলে সাইকেলে বাড়ি পৌঁছে দিতে। বাড়ির কাছে আসলে আল আমিন, আইয়ুব ও ভুট্টো তাদের আটক করে আজেবাজে কথা বলে মারধর করে। পরে ইউপি সদস্য আনিচের কাছে নিয়ে যায়। সেও তাদের বেদম মারপিট করে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
নানি আরও জানান, ওই কিশোরী স্থানীয় আমবটতলার বেলতলা স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। কিন্তু পরীক্ষা দেয়নি।
চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দাউদ হোসেন জানান, ইউপি সদস্য আনিচুরসহ কয়েকজন তাদের মারধর করেছে। এটা নৃশংস ও অন্যায়। আমি এর বিচার দাবি করছি।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর আনিচুর তার কাছে এসেছিলেন। তিনি ওই কিশোরী ও যুবক সম্পর্কে খারাপ অভিযোগ করেন। আমি তাকে বলেছি, ‘এ জন্য আইন আছে। তুমি কেন ব্যবস্থা নিবা।’