সমালোচনা হলে বলতেন কখনো অন্যায় করিনি

একেবারেই নিভৃতচারী, নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করেছেন সাহাবুদ্দীন আহমদ। ২০০১ সাল থেকেই ওনাকে দেখেছি, প্রায় সারাক্ষণ বইয়ে ডুবে থাকতেন। আর সংবাদপত্র পড়াই ছিল প্রধান কাজ। প্রায় দুই যুগ তাকে দেখেছি, শুধু এই করতেন। আর কাছাকাছি আমরা যারা ছিলাম, দেখতাম তাদের সবার কথা শুনতেন, কিন্তু কিছু বলতেন না। কখনো লেখালেখির চেষ্টা করেননি।

উনি আমার ওপর ভীষণ নির্ভরশীল ছিলেন। প্রচারবিমুখ এই মানুষটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যখন সমালোচনা হতো, তখন কষ্ট পেতেন। আওয়ামী লীগ-বিএনপি দুই দলই সমালোচনা করেছে। দুই-একবার সমালোচনার

জবাব দিয়েছেনও। কিন্তু জবাব দিতে গেলে সমালোচনা যখন আরও বেড়ে যেত, তখন সেই চেষ্টাও আর করতেন না। একপর্যায়ে কষ্ট পেতে শুরু করেন। কিছুদিন পর আমাকে বলতেন, এসব সমালেচনা এখন গা সওয়া হয়ে গেছে। কষ্ট পেতেন, কিন্তু কাউকে বলতেন না। আর একটি কথা স্পষ্ট করে বলতেন যে আমি কোনো অন্যায় করিনি।

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের স্নেহের পরশ আমাদের সবাইকে ছুঁয়ে যেত। ওনার মধ্যে আকাশসম উদারতা ছিল। রাজনৈতিক বিভিন্ন পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ওনি কিছুই বলতেন না, তবে শোনার আকাক্সক্ষা ছিল ভীষণ। কোনো রাজনৈতিক দলকে নিয়ে কোনো মন্তব্য করতেন না। সাহাবুদ্দীন আহমদের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক নেতার সম্পর্ক ছিল না, ফোনেও কথা হতো না। শুধু ড. কামাল হোসেন আসতেন, গল্প করতেন। এ ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান বেঁচে থাকতে আসতেন। এ ছাড়া আর কোনো চেনাজানা ব্যক্তিত্ব আসতেন না। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বা ওই দলের অন্য কেউও সাক্ষাৎ করতে আসেননি। তবে আমার জানামতে, আমার শ^শুরকে অনেক অনুরোধ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেন।

২০০১ সালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব শেষ করে আমার শ^শুর চলে যান অন্তরালে। বড় মেয়ে সিতারা পারভীনের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। ২০০৫ সালে আমেরিকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় সিতারা পারভীনের মৃত্যুর পর তার দেখাশোনোর দায়িত্ব নিই আমি। একসময় ছেলেরাও থাকতেন না। আমি তাদের অনুরোধ করেছি শ^শুরের সঙ্গে এসে থাকতে।