চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট মতবিনিময়

রিটার্ন দাখিল না করা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তালিকা হচ্ছে

নিবন্ধিত হওয়ার পরেও শুধু ব্যক্তি নয়, অনেক প্রতিষ্ঠানও আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন না। যেসব প্রতিষ্ঠান রিটার্ন দাখিল করছে না তাদের তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

গতকাল চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, করপোরেট ট্যাক্সে আমরা একটা ভালো সংখ্যক করপোরেট বডি চিহ্নিত করেছি। যাদের ঠিকানা নেই, কোনো কার্যক্রম নেই। কিন্তু তারা এনলিস্টেড। তাদের করের আওতায় নিয়ে আসতে কাজ করছি আমরা। করের বোঝা কমিয়ে আনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, করের বোঝা কমিয়ে নিয়ে আসব। স্বচ্ছ কর আদায় প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে চাই। এজন্য কর পরিশোধ করার প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হবে। এ সময় আয়কর রিটার্ন দাখিলকারীর সংখ্যা আরও বাড়ানোর জন্য চট্টগ্রাম চেম্বারের সহযোগিতা চান তিনি।

মতবিনিময় সভায় আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা, কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ করা, করের বোঝা কমানোর লক্ষ্যে এনবিআর কাজ করছে এবং এ লক্ষ্যে অটোমেশনে এগিয়ে যাচ্ছে। এটি করলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে। দুই বছরে ধাপে ধাপে কর ও ভ্যাটের কোথায় কোথায় অন্তরায় সেগুলো শনাক্তের চেষ্টা করেছি। দীর্ঘদিনের প্র্যাকটিস, মাইন্ডসেট থেকে সরে আসতে একটু সময় লাগছে।

এসএমই খাতের উন্নয়নের স্বার্থে সক্ষমতা অর্জিত হলে দেশে উৎপাদিত হয় এমন পণ্য আমদানি করা হবে না বলেও উল্লেখ করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, আগামী বাজেটে কোন কোন খাতকে অগ্রিম প্রদেয় করদায় চূড়ান্ত হতে অব্যাহতি দেওয়া যায় তা বিবেচনা করা হবে। আমরা ব্যবসা-বাণিজ্যের কিছু সমস্যা চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছি। দুই বছরে এসব সমস্যা অনেক কমিয়েছি। আগামী বাজেটে অবশ্যই ব্যবসায়ীদের যুক্তিসংগত প্রস্তাবনা বিবেচনা করা হবে।

আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তি পর্যায়ে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছে চট্টগ্রাম চেম্বার। চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বৃহত্তর চট্টগ্রামে বাস্তবায়নাধীন মেগা প্রকল্পসমূহ যথাসময়ে সম্পন্ন করার জন্য আগামী বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানান।

মাহবুবুল আলম বলেন, গত দুই বছর করোনা মহামারীর কারণে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সরকার প্রদত্ত লক্ষাধিক কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বর্তমানে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে যা আগামী বাজেটে আরও ত্বরান্বিত হবে। তিনি করপোরেট করহার কমানো, সারচার্জবিহীন নিট সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি টাকার পরিবর্তে ৫ কোটি টাকা নির্ধারণ, ইপিজেডে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানের ৫ বছরের কর অবকাশ সুবিধার প্রত্যয়নপত্র এককালীন ইস্যু করা, লৌহ ও লৌহজাত পণ্যের ক্ষেত্রে উৎসে কর ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ নির্ধারণ, চূড়ান্ত করদায় বাতিল করে কর সমন্বয়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন এনবিআর সদস্য মো. মাসুদ সাদিক, জাকিয়া সুলতানা ও সামস উদ্দিন আহমেদ, চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, পরিচালকদ্বয় এ. কে. এম. আক্তার হোসেন ও হাসনাত মো. আবু ওবাইদা,  চেম্বারের প্রাক্তন সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ, প্রাক্তন পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ ও আফসার হাসান চৌধুরী (জসিম), বিএসআরএমর চেয়ারম্যান আলী হুসেইন আকবর আলী, জিপিএইচ ইস্পাত চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি ও কনফিডেন্স সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।