আগামী ৪ এপ্রিল ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ফলপ্রসূ হবে। এ দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরের বার্ষিকীর দিনটিতে সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার বিষয়ে আলোচনা হবে। গতকাল রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের আলোচনায় এ বিষয়ে দুজনই অভিন্ন মত প্রকাশ করেন।
গতকাল রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। শুরুতেই ড. মোমেন যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন তার ৩৩ বছরের অভিজ্ঞতা ও গল্প তুলে ধরেন। তার সন্তানদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী করার বিষয়েও কথা বলেন।
দুই দেশের অংশীদারত্ব সংলাপ সফলভাবে হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন। কভিড মহামারীর কারণে দুই বছর পর এ সংলাপ হওয়ায় তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি আগামী ৪ এপ্রিল ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সেদিন দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর বার্ষিকীর দিন। আশা করি ওইদিনের বৈঠকে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার বিষয় আসবে। আন্ডার সেক্রেটারি নুল্যান্ডও আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে আসন্ন বৈঠক ফলপ্রসূ হবে।
আলোচনায় আন্ডার সেক্রেটারি ইউক্রেন বিষয়ে তার সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ সবসময় শান্তি চায়। এ সংঘাতময় পরিস্থিতি আলোচনা এবং সমঝোতার মাধ্যমেই সমাধান চায় বাংলাদেশ। তিনি বলেন, আজকের বিশ্বে যুদ্ধ ও সংঘাত সবার জন্যই সমস্যা তৈরি করবে। যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ সবার জন্য এ যুদ্ধ সমস্যার। তিনি আরও স্মরণ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিকভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য রয়েছে।