রেজিস্ট্রেশন নিয়ে জটিলতা

স্কুলশিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ পুলিশের লাঠিপেটা

রাজধানীর গেন্ডারিয়ার মনিজা রহমান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন নিয়ে জটিলতার জেরে বিক্ষোভ করেছে। গতকাল রবিবার দিনভর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সড়ক অবরোধ করে এ বিক্ষোভ হয়।

তবে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কলেজের অধ্যক্ষ লুৎফুন্নাহার ঘটনাস্থলে এ১েল তার পদত্যাগ দাবিতে সেøাগান দেয় শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে অধ্যক্ষের উপস্থিতিতেই তাদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সিনথিয়া আক্তার মাহী দেশ রূপান্তরকে বলে, ‘আমরা সারা দিন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিলাম। বিকেলে হঠাৎ নারী পুলিশ আমাদের ওপর হামলা পুলিশের লাঠিপেটা করে। এতে পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়। নুসরাত আনসারিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।’

আন্দোলনকারীরা জানায়, তারা ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী। নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনের টাকা-পয়সা নেওয়া হলেও তাদের রেজিস্ট্রেশন করা হয়নি। ফলে এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারছে না তারা।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আতিয়া সুলতানা বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশনের টাকা অধ্যক্ষ লুৎফুন্নাহার আত্মসাৎ করেছেন। রেজিস্ট্রেশন না করায় শিক্ষার্থীরা এসএসসির ফরম পূরণও করতে পারেনি। আমরা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছি।’

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার প্যাট্রল ইন্সপেক্টর শেখ আবুল বাশার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কাছে আসতে গেলে তাদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের ধাক্কাধাক্কি হয়। সেখানে মারধর কিংবা আহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

অভিযোগ রয়েছে, লুৎফুন্নাহার একই সঙ্গে দুটি কলেজের অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এর একটি হচ্ছে মনিজা রহমান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ; অন্যটি টাঙ্গাইলের ব্রাহ্মণশাসন মহিলা কলেজ। ২০২০ সাল থেকে তিনি উভয় কলেজে দায়িত্ব পালন করছেন। বিষয়টি জানার পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) তদন্ত কমিটি করে। তদন্ত চলমান রয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্কুলটিতে নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো বৈধ অধ্যক্ষ না থাকায় রেজিস্ট্রেশন কার্ড পাঠানো হয়নি। বোর্ডে সবার রেজিস্ট্রেশন কার্ড আছে। চাইলে সংগ্রহ করতে পারবে। কারও রেজিস্ট্রেশন না হয়ে থাকলে সেটিও বোর্ড নতুন করে দিতে পারবে। কারও রেজিস্ট্রেশন বাতিল হবে না।’

অধ্যক্ষ লুৎফুন্নাহার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দিয়ে একটি মহল আন্দোলন করাচ্ছে। তাদের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।’