ভুল পথেই ইউরোপ

সিগমুন্ড ফ্রয়েডের একটি হারানো পা-ুলিপি খুঁজে পান ফরাসি এক ঐতিহাসিক। ওই পা-ুলিপি পড়ে তিনি দেখতে পান এক শ বছর আগে ইউরোপিয়ান কূটনীতি যে রাস্তায় হেঁটেছিল, ইতিহাসের বর্তমান সন্ধিক্ষণে ঠিক সেই একই কৌশলের প্রতিধবনি হচ্ছে। প্যাট্রিক ওয়েইল তার বিখ্যাত ‘হ্যাজ দ্য প্রেসিডেন্ট গন ম্যাড?’ শীর্ষক বইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট উইড্রো উইলসন সম্পর্কে লেখেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর উইলসনের হাত ধরেই হয়েছিল ঐতিহাসিক ভার্সাই চুক্তি। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ছিল সেটা। ওই চেষ্টায় ব্যর্থ হন উইলসন। ওই চুক্তির অসারতার ফলেই জার্মানিতে উত্থান ঘটেছিল নাৎসিদের। ১৯৩০ সালে ফ্রয়েড উইলসনের মনস্তত্ত্ব নিয়ে একটি পা-ুলিপি লিখেছিলেন। সেই পা-ুলিপি ১৯৬০ সালের আগ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি। আমেরিকান একজন প্রেসিডেন্টকে নিয়ে ফ্রয়েড যে ভাষায় সমালোচনা করেছিলেন তা আজও নিতে পারে না যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। ১৯৬০ সালে ফ্রয়েডের পা-ুলিপিটি প্রকাশিত হলেও তাতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়।

ফ্রান্সের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জর্জেস ক্লেমেনচুর কারণেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে জার্মানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছিল। জর্জেস চেয়েছিলেন জার্মানিকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিতে। কিন্তু তার এই চাওয়ার পর বিপরীতমুখী ক্রিয়ার জন্ম দেয়। ফ্রান্স জার্মানির কাছ থেকে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের শরণাপন্ন হয় এবং ন্যাটোর জন্ম হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে উইলসন যে ভুল করেছিলেন তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় করতে চাননি রুজভেল্ট। তখন চার্চিল ও রুজভেল্ট উভয়েরই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতা ছিল। কিন্তু ইউরোপের বর্তমান নেতাদের এমন কোনো অভিজ্ঞতা নেই। ফলে আজকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার চালানো বিশেষ অভিযানের বিরুদ্ধে যেতে গিয়ে ইউরোপকে পুরনো রাস্তাতেই হাঁটতে দেখা যাচ্ছে।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে সবচেয়ে সরব ভূমিকা পালন করতে দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে। ইউরোপ চাইছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাদের হয়ে লড়াই করুক যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেন-রাশিয়া দ্বন্দ্বে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রত্যক্ষ ভূমিকা না থাকার পরেও দেশটি একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যাচ্ছে রাশিয়ার ওপর। এতে একদিকে যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে জাতিসংঘ, তেমনি ইউরোপে ডানপন্থীদের অবস্থান ক্রমশ টলে উঠছে। বেশ কয়েক দিন আগেই ওয়াশিংটন পোস্টের একটি বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইউক্রেন প্রশ্নে ইউরোপের জনগণের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।