মাসে সোয়া এক লাখ নতুন গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। করোনা মহামারী শুরুর পর থেকে ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা গ্রহণের বিষয়ে গ্রাহকদের মধ্যে এমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি মাসে নতুন করে ইন্টারনেট সেবায় যুক্ত হয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৮৪৭ জন গ্রাহক।
এ নিয়ে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মোট গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়াল ৪৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৫ জনে। আগের মাস ডিসেম্বরে এই সেবার গ্রাহক ছিল ৪৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯৩৮ জন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে এমন তথ্য পাওয়া যায়। প্রাপ্ত তথ্যে আরও দেখা যায়, ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহকরা প্রতি মাসে গড়ে একটি লেনদেন করছেন। গত জানুয়ারি মাসে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে লেনদেন হয় ৪৫ লাখ ৫৫ হাজার বার। প্রতি লেনদেনে গড় অঙ্ক প্রায় ৪১ হাজার টাকা। গত জানুয়ারি মাসে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৬২৩ কোটি টাকা।
প্রসঙ্গত, ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবার গ্রাহকরা যে কোনো স্থানে বসে কম্পিউটার বা স্মার্টফোনে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে ব্যাংকের ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবের লেনদেন করতে পারেন। এর জন্য প্রয়োজন হয় একটি ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড। ব্যাংকের হিসাবধারীরা তাদের নিজ নিজ শাখায় গিয়ে ইমেইল ঠিকানার মাধ্যমে এই ইউজার আইডি ও পার্সওয়ার্ড সংগ্রহ করেন। ব্যাংক হিসাবে কত টাকা জমা আছে তা জানার পাশাপাশি নিজ ব্যাংক বা অন্য ব্যাংকের গ্রাহকের হিসাবে টাকা স্থানান্তর করা, মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে টাকা পাঠানো, মোবাইল রিচার্জ করা, বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধসহ কয়েক ধরনের লেনদেন করা যায়। বর্তমানে অধিকাংশ ব্যাংকই ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধা দিচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্যে আরও দেখা যায়, গত বছরের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় নতুন গ্রাহক যুক্ত হয়েছে ১২ লাখ ৩৫ হাজার। আর গত বছরের জানুয়ারি মাসে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৫৪৩ কোটি টাকা। সেই হিসেবে এক বছর পর ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে লেনদেন বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, করোনাভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর থেকে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে এ ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছে। ২০২০ সালের মার্চে যখন করোনার প্রকোপ ধরা পড়ে তখন মাসে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে লেনদেন হতো ৬ হাজার কোটি টাকা।
ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৪ সালে দেশে প্রথম ইন্টারনেট ব্যাংকিং চালু করে এবি ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংক। এর পর থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত এই সেবার গ্রাহক সংখ্যা ছিল ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬৮১ জন। এর পরের দুই বছরে ১৯ লাখ ৬ হাজার ১০৪ জন নতুন গ্রাহক যোগ হয় ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২০টি ট্রানজেকশনে দৈনিক সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা লেনদেন করতে পারেন। ব্যক্তিপর্যায়ে দৈনিক সর্বোচ্চ ১০টি ট্রানজেকশনের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা যাবে। আর পৃথক লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয় প্রতি ১ লাখ টাকা। এর আগে প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিপর্যায়ের ব্যবহারকারীদের জন্য কোনো পৃথক লেনদেনের সীমা ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংকের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের অধীনে ইন্টারনেট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়।