ময়মনসিংহের ত্রিশালে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘মুক্তির উৎসব ও সুবর্ণজয়ন্তী মেলায়’ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ম্যুরাল চুরি ও স্টল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এ মেলায় গত রবিবার রাতে শিক্ষা অফিসের স্টলসহ ৩টি স্টলে ককসিট দিয়ে বানানো বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ম্যুরাল চুরির পাশাপাশি দুর্বৃত্তরা স্টলে লুটপাট ও ভাঙচুর করে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ম্যুরাল চুরি এবং স্টলে লুটপাট ও ভাঙচুরের খবর পেয়ে গতকাল সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ত্রিশালের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আক্তারুজ্জামান, ত্রিশাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবু বকর ছিদ্দিক এবং উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর আকন্দ।
ত্রিশাল উপজেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আজ (গতকাল সোমবার) সকালে এসে আমরা দেখি রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা শিক্ষা অফিসের স্টল থেকে ককসিটে তৈরি বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ম্যুরাল চুরি করে নিয়ে গেছে। এছাড়া তারা স্টলও ভাঙচুর করেছে। বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানো হয়েছে।’
ত্রিশাল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মেলায় আমাদের শিক্ষা অফিসের স্টল থেকে রাতের অন্ধকারে কে বা কারা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ম্যুরালসহ আরও অনেক জিনিসপত্র চুরি ও স্টল ভাঙচুর করেছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং জড়িতদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানাই।’
বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ম্যুরাল চুরি এবং স্টল ভাঙচুরের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বলে জানিয়েছেন ত্রিশালের ইউএনও মো. আক্তারুজ্জামান। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ ঘটনাটি যে বা যারাই ঘটাক না কেন তদন্তের মাধমে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া এখন থেকে মেলায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করা হবে।’
এ প্রসঙ্গে ত্রিশাল থানার ওসি মো. মাইন উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাটি কে বা কারা ঘটিয়েছে তদন্তের মাধ্যমে তা খুঁজে বের করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উল্লেখ্য, উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘মুক্তির উৎসব ও সুবর্ণজয়ন্তী মেলা’ গত ১৭ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে, চলবে আগামীকাল ২৩ মার্চ পর্যন্ত।