দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাসের দাম বাড়ানোর সুপারিশ করেছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। দুই চুলায় ১০৫ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮০ টাকা এবং এক চুলায় ৬৫ টাকা বাড়িয়ে ৯৯০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর বিইআরসির গণশুনানিতে এ সুপারিশ এসেছে।
পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (পিজিসিএল) রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও বগুড়ায় গ্যাস সরবরাহ করে। আর খুলনা, যশোরসহ পাঁচ জেলায় গ্যাস বৃদ্ধির সুপারিশ বিতরণ করে সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড। এ দুটি কোম্পানি দুই চুলায় গ্যাসের দাম ৯৭৫ থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ১০০ টাকা এবং এক চুলার গ্যাসের দাম ৯২৫ থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করেছিল।
শুনানিতে বিইআরসির চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বলেন, ‘সবার আগে জনগণ, তাদের ছাড়া আমারও অস্তিত্ব থাকে না। দাম বৃদ্ধির পরে সামাজিক কী প্রভাব পড়বে সেটি দাম বৃদ্ধির আবেদনের সঙ্গে থাকা উচিত ছিল। কিন্তু কোম্পানিগুলো সে বিষয়টি এড়িয়ে গেছে। এটি থাকা উচিত ছিল।’
বিদ্যুৎ খাতে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৪ টাকা ৪৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩৪ পয়সা, ক্যাপটিভে ১৩ টাকা ৮৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৫ টাকা ৫০ পয়সা, সারে ৪ টাকা ৪৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩৪ পয়সা, চা শিল্পে ১০ টাকা ৭০ পয়সা বাড়িয়ে ১২ দশমিক ৬৫, বাণিজ্যিকে ২৩ থেকে বাড়িয়ে ২৭ টাকা ৬০ পয়সা, সিএনজিতে ৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৪৯ টাকা ৫০ পয়সা করার সুপারিশ করেছে কারিগরি কমিটি। এছাড়া মিটারযুক্ত চুলার ক্ষেত্রে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ১২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৮ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
শুনানিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিইআরসির সদস্য মকবুল ই ইলাহী চৌধুরী, বজলুর রহমান ও মোহাম্মদ আবু ফারুক প্রমুখ।
গত ২১ মার্চ গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি শুরু হয়েছে। শেষ হবে ২৫ মার্চ। শুনানি শেষ করে ৯০ দিনের মধ্যে আদেশ দেবে বিইআরসি। সে আদেশের পর নির্ধারিত দাম কার্যকর হবে।