বিএনপি নেতার মাথা ফাটাল যুবদল কর্মীরা

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ড. টিএম মাহবুবর রহমানকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে যুবদল কর্মীরা। গত সোমবার দুপুরে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে ভেতরে তাকে মারধর করা হয় বলে জানিয়েছেন মাহবুবর রহমান। হামলায় এই বিএনপি নেতার মাথা ফেটে গেছে।

জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনার কথা বলে মাহবুবর রহমানকে ডেকে নিয়ে যান জেলা বিএনপি নেতারা। উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবর রহমানের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমিনের মতপার্থক্যের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে এর আগে বাকবিতণ্ডাও হয়েছে। এরই জের ধরে বেধড়ক মারধরের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ মাহবুবর রহমানের।

তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সেখানে (জেলা বিএনপি কার্যালয়) সম্মেলনের সকল আলোচনা শেষে দলের নেতারা চলে যাওয়া শুরু করলে আমাকে কৌশলে কথা আছে বলে আবার কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। ভেতরে ঢোকার পর কিছু বুঝে ওঠার আগেই যুবলদের নেতা জাহিদসহ আরও কিছু যুবদল কর্মী গেটে তালা লাগিয়ে দিয়ে আমাকে বেধড়ক মারপিট শুরু করে। ওই সময় মির্জা ফয়সল আমিন উপস্থিত ছিলেন এবং আমাকে মার খেতে দেখে মুচকি হাসছিলেন।’

মাহবুবর রহমান জানান, একপর্যায়ে তার চিৎকার শুনে জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলম, ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, সুলতানুল ফেরদৌস এবং বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ আলম তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় তাকে বালিয়াডাঙ্গীতে নিজের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ড. মাহবুব অভিযোগ করে বলেন, ‘জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমিনের নির্দেশেই আমার ওপর হামলা হয়েছে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মির্জা ফয়সাল আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। এসবের কিছুই জানি না। পরে শুনেছি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁও যুবদলের সভাপতি আবু নূর বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম না। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঠাকুরগাঁও জেলার বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান বলেন, ‘একটা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে।’