প্রেমের বিয়ে মানল না আত্মহত্যা করল দম্পতি

ভালোবেসে পছন্দের মানুষকে বিয়ে করেছিলেন মার্জিয়া জান্নাত (১৮)। কিন্তু প্রেমিক সবুজ মিয়ার (২১) আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় এ বিয়ে মেনে নেয়নি মার্জিয়ার পরিবার। উল্টো বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ১৫ দিন আগে তাকে অন্য জায়গায় বিয়ে দেওয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে অভিমান করে গত সোমবার রাতে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন সবুজ-মার্জিয়া দম্পতি। বগুড়ার শিবগঞ্জের মাঝিহট্ট ইউনিয়নের দামগারা কারিগরপাড়া ও মাসিমপুর চালুঞ্জা তালুকদারপাড়ায় নিজ নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন তারা। পরে রাতেই পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।

মৃতদের মধ্যে সবুজ মিয়া দামগারা কারিগরপাড়ার প্রয়াত আবদুল জলিলের ছেলে এবং মার্জিয়া মাসিমপুর চালুঞ্জা তালুকদারপাড়ার আবদুর রাজ্জাকের মেয়ে।

এলাকাবাসীর বরাতে পুলিশ জানায়, দরিদ্র পরিবারের ছেলে সবুজ মিয়া দিনমজুরের কাজ করতেন। অন্যদিকে নামুজা ডিগ্রি কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী মার্জিয়ার বাবা অবস্থাসম্পন্ন। প্রায় দুই বছর ধরে মার্জিয়া ও সবুজের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরিবারকে না জানিয়ে সম্প্রতি তারা বিয়ে করেন। বিয়ের বিষয়টি জানতে পেরে মার্জিয়ার পরিবার তা মেনে না নিয়ে ১৫ দিন আগে তাকে অন্য জায়গায় গোপনে বিয়ে দিয়ে দেয়। গত সোমবার রাত ১০টার দিকে এ দম্পতি মোবাইল ফোনে একে অন্যের সঙ্গে কথা বলছিল। একপর্যায়ে সবুজকে লাইনে রেখে বিষপান করেন মার্জিয়া। তখন ফোনের অন্যপ্রান্তে থাকা সবুজ বিষয়টি বুঝতে পেরে দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস নেন। রাত ১২টার দিকে তাদের আত্মহননের বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা টের পেয়ে থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

এ প্রসঙ্গে শিবগঞ্জ থানার ওসি দীপক কুমার দাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই সবুজ-মার্জিয়া দম্পতির লাশ উদ্ধার করে। পরে আজ (গতকাল মঙ্গলবার) দুপুর ১২টার দিকে লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।’

সবুজ-মার্জিয়া দম্পতির আত্মহত্যার ঘটনায় থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর (ইউডি) আলাদা দুটি মামলা করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।