রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জমকালো অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মধ্যে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০২০’ বিতরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ পুরস্কার বিতরণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২৭ ক্যাটাগরিতে পুরস্কারের জন্য ৩২ জনের নাম ঘোষণা করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। সেরা চলচ্চিত্র বিভাগে যৌথভাবে পুরস্কার জিতেছে ‘গোর (দ্য গ্রেভ)’ ও ‘বিশ্বসুন্দরী’। গোর (দ্য গ্রেভ) যৌথভাবে প্রযোজনা করেছেন গাজী রাকায়েত ও ফরিদুর রেজা সাগর। আর ‘বিশ্বসুন্দরী’র প্রযোজক ছিলেন অঞ্জন চৌধুরী। চলচ্চিত্র শিল্পে অসামান্য অবদানের জন্য ‘আজীবন সম্মাননা’ অর্জন করেছেন অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগম (আনোয়ারা) ও অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদ।
‘গোর’ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন গাজী রাকায়েত। ‘বিশ্বসুন্দরী’ ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সিয়াম আহমেদ সেরা অভিনেতা নির্বাচিত হন। আর ‘গোর’ চলচ্চিত্রের জন্য দীপান্বিতা মার্টিন সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান। পার্শ্ব চরিত্রে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন ‘বিশ্বসুন্দরী’ ছবির জন্য ফজলুর রহমান বাবু এবং ‘গন্ডি’ ছবির জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন অপর্ণা ঘোষ।
‘বীর’ ছবিতে নেতিবাচক চরিত্রে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান মিশা সওদাগর। ‘গন্ডি’ ছবির জন্য সেরা শিশু শিল্পীর পুরস্কার জিতেছে মুগ্ধতা মোর্শেদ ঋদ্ধি। ‘হৃদয় জুড়ে’ ছবিতে ‘বিশ্বাস যদি যায়রে’ গানের জন্য বেলাল খান শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালকের পুরস্কার এবং ‘বিশ্বসুন্দরী’ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালক হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন প্রয়াত মো. সাহিদুর রহমান।
সেরা গায়কের পুরস্কার পেয়েছেন ইমরান মাহমুদুল (বিশ্বসুন্দরী) এবং দিলশাদ নাহার কনা ও সোমনুর মনির কোনাল যৌথভাবে ‘বিশ্বসুন্দরী’ ও ‘বীর’ চলচ্চিত্রে গানের জন্য শ্রেষ্ঠ গায়িকার পুরস্কার পেয়েছেন। সৈয়দ আশিক রহমান পরিচালিত প্রামাণ্যচিত্র ‘বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্র বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছে এবং জান্নাতুল ফেরদৌস পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আড়ং’ শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে।
পুরস্কার পাওয়া অন্যরা হলেন কবির বকুল (সেরা গীতিকার), মো. মাহমুদুল হক ইমরান (সেরা সুরকার), গাজী রাকায়েত (গল্পকার), গাজী রাকায়েত (চিত্রনাট্যকার), ফখরুল আরেফিন খান (সংলাপ), শরিফুল ইসলাম (সম্পাদনা), উত্তম কুমার গুহ (সেরা শিল্প নির্দেশনা), পঙ্কজ পালিত এবং মাহবুব উল্লাহ নিয়াজ (সম্মিলিতভাবে সেরা চিত্রগ্রাহক), মো. শাহাদাত হাসান বাঁধন (সেরা শিশু শিল্পী বিভাগে বিশেষ পুরস্কার), কাজী সেলিম আহমেদ (সাউন্ড ডিজাইনার), এনামতারা বেগম (পোশাক) এবং মোহাম্মদ আলী বাবুল (মেকআপ)।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মো. মকবুল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে বক্তব্য দেন অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদ।
উন্নত জাতি গড়তে ভূমিকা রাখবে চলচ্চিত্র : মানুষের আত্মিক উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নত জাতি গঠনে চলচ্চিত্রশিল্প বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘আজকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন যেমন হয়েছে, তেমনি মানুষের আত্মিক উন্নয়নের মাধ্যমে একটি উন্নত জাতি গঠন করার লক্ষ্যেও তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। এ জন্য যে সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশ প্রয়োজন, চলচ্চিত্রশিল্প সে ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে।’
গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেম-এ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২০ প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু অনুধাবন করেছিলেন পাকিস্তান রাষ্ট্রব্যবস্থায় বাঙালির মুক্তি নিহিত নেই; বরং তারা আমাদের কৃষ্টি, ভাষা, সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানছে। তাই প্রাদেশিক শিল্পমন্ত্রী থাকাকালে এই জনপদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি রক্ষা ও চলচ্চিত্রশিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে তিনি ১৯৫৭ সালে প্রাদেশিক পরিষদে চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন বিল উত্থাপন করেন। সেই থেকে এ দেশে চলচ্চিত্রশিল্পের প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু। এরপর বহু কালজয়ী চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে এবং অনেক চলচ্চিত্র আমাদের স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলনে, স্বাধীনতা সংগ্রামে ও স্বাধীনতা-পরবর্তী দেশ গঠনে ভূমিকা রেখেছে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন এবং তার পক্ষে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বিজয়ীদের হাতে চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২০ তুলে দেন।