র্যাব এবং এর সাবেক-বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা যে সহসা উঠছে না, বাংলাদেশকে এরই মধ্যে সেই ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে দেশটির সবশেষ অবস্থান নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ডের ঢাকা সফরের সময় এমন আলোচনাই হয়েছে। তবে র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি বলে মনে করছেন তিনি।
গতকাল বুধবার বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ন্যায্যতা বিশ্বাস করি, আমরা সঠিক পন্থায় বিশ্বাস করি, আমরা অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করি এবং কোনো ধরনের বৈষম্যে বিশ্বাস করি না। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হওয়ার সম্ভাবনা অনেক অনেক বেশি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগে এক নম্বরে রয়েছে আমেরিকা। এছাড়া সুখে-দুঃখে তারা আমাদের পাশে আছে। আমরা আশা করব, আগামী ৫০ বছরে সম্পর্ক আরও বাড়বে এবং এর কারণ হলো বাংলাদেশ ও আমেরিকা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাস করে।’
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে গত বছর ১০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ও বর্তমান পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদসহ বাহিনীর সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সে সময় ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূতকে ডেকে এমন পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছিল সরকার।
সম্প্রতি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারত্ব সংলাপে যোগ দিতে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড ঢাকায় আসেন। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে র্যাবের ওপর ওই নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গও তোলা হয়।
ড. মোমেন বলেন, ‘গত ১০ ডিসেম্বরের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব বৈঠকে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। দেশটির আন্ডার সেক্রেটারির (ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড) সঙ্গেও এটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ওনার বক্তব্য আপনারা শুনেছেন। তিনি বলেছেন, গত তিন মাসে র্যাবের হাতে কারও মৃত্যু হয়নি এবং এটিতে তারা খুশি।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ওনাদের বলেছি যা যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার সেটি আমরা নিচ্ছি। আমাদের সিস্টেমে কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আছে, যেটি অনেক সময় কার্যকরী হয় না। সেগুলো যাতে কার্যকরী হয়, সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
এর আগে গত রবিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নে বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তা ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড বলেছিলেন, (র্যাবের) নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ‘জটিল ও কঠিন’। তবে এটি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে দুই দেশের সরকার।