সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেড থেকে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া সড়কটি নকশায় সোজা থাকলেও গোদনাইল এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে বাঁকা করে। আরকে টেক্সটাইল মিল থেকে চাষাঢ়ার দিকে অন্তত ১৫ ফুট পূর্ব দিকে বাঁকা করা হচ্ছে সড়কটি। দুই লেনের ৬ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ ২০২১ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রভাবশালী মহলকে সুবিধা দিতে সওজ কর্তৃপক্ষ সময় ক্ষেপণ ও মাত্র ২৫ ভাগ কাজ করেছে। এতে ক্ষোভে ফুঁসছেন ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়রা।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ চাষাঢ়ার চাঁনমারী থেকে পরিত্যক্ত রেলওয়ের জমির ওপর দিয়ে আদমজী ইপিজেড পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পায়। যার দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ২ কিলোমিটার। প্রশস্ত ৭ দশমিক ৩০ মিটার। উভয় পাশে ১ দশমিক ৮০ মিটার প্রশস্ত হার্ডশোল্ডার থাকবে। এছাড়াও সড়কের বিভিন্ন স্থানে চারটি আরসিসি সেতু ও একটি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। যার ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ছিল। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সড়কটি ২ কিলোমিটার করে ভাগ করে তিনটি গ্রুপে কাজ করছে। প্রথম অংশ আদমজী থেকে আরকে টেক্সটাইল মিল পর্যন্ত ২ কিলোমিটার। আরকে টেক্সটাইল মিলের দক্ষিণে গোদনাইল থেকে সড়কের মধ্য অংশ ২ কিলোমিটার। এখানে সড়কটি সোজা না গিয়ে পূর্ব দিকে প্রায় ১৫ ফুট বাঁকা হয়ে নির্মিত হচ্ছে। অন্য অংশে রেললাইনের পশ্চিম পাশ দিয়ে সড়ক নির্মাণ হলেও আরকে টেক্সটাইল মিল থেকে ১৫ ফুট পূর্ব দিকে সরিয়ে রেললাইনের পূর্ব পাশ দিয়ে সড়ক নির্মাণ করায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলী হোসেন ও মোখলেস জানান, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ রেললাইনের পূর্ব পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নোটিস দিলেও পশ্চিম পাশের স্থাপনা উচ্ছেদের নোটিস দেয়নি। রেললাইনের দুই পাশে জমি থাকলেও শুধু মাত্র পূর্ব পাশে উচ্ছেদ করছে। এখানে বসবাসকারী বাসিন্দারা সবাই ভূমিহীন ও দিনমজুর। ভূমিহীনদের দখলে থাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও রহস্যজনক কারণে প্রভাবশালী মহলের স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়নি।
নাসিকের ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুহুল আমীন মোল্লা জানান, নকশায় সড়কটি রেলাইনের পশ্চিম পাশ দিয়ে নির্মাণের কথা থাকলেও কী কারণে বাঁকা করে পূর্ব পাশ দিয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা আমার জানা নেই।
প্রকল্প পরিচালক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শফিউল কাদের জানান, আমাদের কাজ সড়ক নির্মাণ করা। নকশা অনুযায়ী সড়ক নির্মাণ করা হবে। ইচ্ছেমতো আমাদের কিছুই করার ক্ষমতা নেই। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আমাদের জমি বুঝিয়ে দিলে ওই জমিতে আমরা সড়ক নির্মাণ করব।
নারায়ণগঞ্জের দায়িত্বে থাকা রেলওয়ের কানুনগো ইকবাল হোসেন জানান, ওই এলাকায় রেললাইনের পূর্ব পাশে ৪৬ ফুট ও পশ্চিম পাশে ২৭ ফুট প্রস্থে জমি রয়েছে। আমাদের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
নারায়ণগঞ্জ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী ইকবাল জানান, প্রকল্পের সড়ক নির্মাণের অ্যালাইনমেন্ট-এ বিদ্যমান অবৈধ স্থাপনা এবং রেলওয়ে কর্তৃক লিজকৃত কারখানাসমূহ উচ্ছেদ করে পজিশন হস্তান্তর না হওয়ায় ২৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি। কারও পৈতৃক সম্পত্তিতে নয় রেলওয়ের জমিতেই সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।