ঢাকার সড়কে আ.লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা, প্রাণ গেল কলেজছাত্রীরও

রাজধানীর শাহজাহানপুরে ব্যস্ত সড়কে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হয়েছেন মাইক্রোবাস আরোহী এক আওয়ামী লীগ নেতা। এ সময় এলোপাতাড়ি গুলিতে প্রাণ গেছে রিকশা আরোহী এক কলেজছাত্রীরও। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়েছেন নিহত আওয়ামী লীগ নেতার গাড়িচালক। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে খিলগাঁও রেলক্রসিংসংলগ্ন শাহজাহানপুরের আমতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে ১১টি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট।

নিহতদের মধ্যে জাহিদুল ইসলাম টিপু (৫৪) মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন। তার স্ত্রী ওই এলাকার সংরক্ষিত আসনের নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর। নিহত অন্যজনের নাম সুমাইয়া আফরিন প্রীতি (১৯)। তিনি সরকারি বদরুন্নেসা কলেজের স্নাতকের ছাত্রী। গুলিতে আহত মাইক্রোবাস চালকের নাম মুন্না। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত জাহিদুল ইসলাম টিপুর স্বজন মেরাজউদ্দিন মেরাজ দেশ রূপান্তরকে জানান, রাত ১০টার দিকে তার ভাইসহ চারজন মাইক্রোবাসে করে শাহজাহানপুরের আমতলা এলাকায় পৌঁছামাত্র দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি গুলি করে পালিয়ে যায়। এ সময় গাড়ির ভেতরে থাকা চালকসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হন। ওই সময় রিকশা আরোহী কলেজ শিক্ষার্থীও গুলিবিদ্ধ হন। আশপাশের লোকজন গুলিবিদ্ধদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক রাত ১১টার দিকে টিটু ও কলেজছাত্রী প্রীতিকে মৃত ঘোষণা করেন।

টিপুর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢামেক হাসপাতালে ছুটে যান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মামুনুর রশীদ শুভ্র। তিনি জানান, হামলার সময় নিহত টিপুর মাইক্রোবাসটি যানজটে আটকা পড়ে ছিল।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) আব্দুল খান গতকাল রাত ১২টার দিকে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শাহজাহানপুর থেকে তিনজনকে ঢামেকে আনার পর আওয়ামী লীগ নেতা এবং এক নারীকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওই নেতার গাড়িচালক মুন্নাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আনার পর তার চিকিৎসা চলছে।’

নিহত টিপুর স্বজন হামলায় কয়েকজন দুর্বৃত্তের অংশ নেওয়ার কথা জানালেও পুলিশ বলছে হামলাকারী ছিল একজন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল জোনের উপকমিশনার আবদুল আহাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খিলগাঁও রেলক্রসিং এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরিহিত একজন সন্ত্রাসী জাহিদুল টিপুর গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করেন। এতে মাইক্রোবাসের সামনের সিটে বসা টিপু ও তার গাড়িচালক গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় রিকশা আরোহী বদরুন্নেসা কলেজের এক ছাত্রীও গুলিবিদ্ধ হন। তাদের সবাইকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়ার পর টিপু ও কলেজছাত্রীকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান ও জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করে দিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখা গেছে, একজন মাত্র ব্যক্তি এই ঘটনা ঘটিয়ে মোটরসাইকেলে পালিয়ে গেছে।’

গুলিবিদ্ধ গাড়িচালক মনির হোসেন মুন্না হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, তার গাড়ির মালিক জাহিদুল ইসলাম টিপুর বাসা শাহজাহানপুর বাগিচা এলাকায়। মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তিনি। মতিঝিল এজিবি কলোনি থেকে গাড়িতে বাগিচার বাসায় ফিরছিলেন টিপু। পথে শাজাহানপুর আমতলা মসজিদ এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ দুর্বৃত্তরা তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এই গুলিতে গাড়ির ভেতরে থাকা তারা দুজন গুলিবিদ্ধ হন।

নিহত প্রীতির বান্ধবী সুমাইয়া জানান, প্রীতির বাসা শান্তিবাগ মগা হাজীর গলিতে। সুমাইয়ার বাসা তিলপাপাড়া। রাতে তারা দুজন ঘুরতে বের হয়েছিল। সুমাইয়া তাকে রেলগেট থেকে রিসিভ করে তিলপাপাড়ায় তার বাসায় নিয়ে যাচ্ছিল। রিকশায় যাওয়ার পথে হঠাৎ গুলির শব্দ শুনতে পান। কে বা কারা গুলি করেছে তা বলতে পারেননি তিনি।

জানা গেছে, নিহত জাহিদুল ইসলাম টিপু মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের ৫ বারের সদস্য ছিলেন। তার স্ত্রী ফারহানা ইসলাম ডলি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১, ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর। এই দম্পতির ১ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে।

নিহত আওয়ামী লীগ নেতা টিপু গুলশানের যুবলীগের নেতা রিয়াজুল হক খান ওরফে মিল্কি হত্যার আলোচিত মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন বলে জানিয়েছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা। তবে ওই মামলায় আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে তার নাম ছিল না।