গাজীপুর সদরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) রাস্তা সম্প্রসারণ কাজে জোরপূর্বক কৃষকের ফসল নষ্ট ও জমি গর্ত করে মাটি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ কাজে স্থানীয়রা বাধা দিলে জমির মালিককে চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে গ্রামছাড়া করার হুমকি দিচ্ছে ঠিকাদারের লোকজন এবং স্থানীয় প্রভাবশালীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বিভাগের উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়কসমূহ প্রশস্ত ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়নের ছোট কয়ের গ্রাম থেকে খাতিয়া পর্যন্ত ১৭ হাজার ১৫ মিটার সড়ক প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রশস্তকরণ ও উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। বাড়িয়া ইউনিয়ন থেকে পুবাইল বাজারে যাতায়াতের রাস্তার এ অংশের কাজ করছে ‘মেসার্স মোস্তফা কামাল এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। রাস্তাটি ২৪ ফুট প্রশস্ত করা হবে। এর মধ্যে ১৮ ফুট করা হবে কার্পেটিং। ঠিকাদারের নিজ খরচে মাটির ব্যবস্থা করে রাস্তাটি নির্মাণ করার কথা থাকলেও রাস্তার পার্শ্ববর্তী জমির মালিকদের কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ না দিয়ে জোরপূর্বক ফসলি জমি এমনকি ফসলসহ জমি থেকে গভীর গর্ত করে মাটি নিয়ে রাস্তা প্রশস্ত করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জমির মালিকদের না জানিয়ে জোরপূর্বক রাস্তার পাশের ফসলি জমি থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে রাস্তার দুই পাশ প্রশস্ত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাদের সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে গ্রামছাড়া করার হুমকি দিচ্ছে ঠিকাদারের লোকজন ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা।
সরেজমিন ছোট কয়ের গ্রামে গিয়ে কৃষকদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। বোরো ধান, টমেটো চাষ করা হয়েছে, এমন জমি থেকেও গর্ত করে মাটি নিতে দেখা গেছে। ছোট কয়ের গ্রামের বাসিন্দা মিলন শেখ বলেন, ‘আমার দেড় বিঘা ফসলি জমির মাটি ভেকু দিয়ে গভীর খাদ তৈরি করে কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওই জমিতে টমেটো ও বোরো ধানের চারা রোপণ করা হয়েছিল। আমি জমি ও মাটির ক্ষতিপূরণ চাইলে মামলার হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয় সন্ত্রাসীরা ঠিকাদারের পক্ষ নিয়ে নিরীহ কৃষকদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। জমি থেকে মাটি না দিলে রাস্তায় বের হতে দেবে না বলেও হুমকি দিচ্ছে।’
একই গ্রামের হাসান উদ্দিন বলেন, ‘আমার প্রায় এক বিঘা জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি কেটে নিয়ে গেছে। ওই জমিতে কয়েক হাজার টাকা ব্যয় করে লাউয়ের টাল দেওয়া ছিল। তাও ভেঙে ফেলা হয়েছে। আমার জমি গেছে, জমির মাটি গেছে এবং ফসলের ক্ষতি হয়েছে, কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি।’ একই অভিযোগ জানালেন ওই গ্রামের জামাল সরকার বাবু, জজ মিয়া, নাসির উদ্দিনসহ অনেকে।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমি কাজটি পেলেও গাজীপুরের স্থানীয় ঠিকাদাররা এ কাজটি করছে। কাজেই কেউ কোনো অনিয়ম করলে দায় তাদের।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর গাজীপুরের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. শাকিল হোসেন বলেন, ‘সড়কটি প্রশস্তকরণ ও উন্নয়নের জন্য যে ডিপিপি তৈরি করা হয়েছিল তাতে জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি নেই। আর স্থানীয়ভাবে নিজ দায়িত্বে রাস্তার জন্য ঠিকাদার মাটি সংগ্রহের কথা বলা হয়েছে। কারও জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি নেওয়ার বিষয়ে কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি।’