রাশিয়াকে ঠেকাতে একজোট পশ্চিমা নেতারা

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেনের যন্ত্রণা সবচেয়ে কাছ থেকে দেখছে পোল্যান্ড। দেশটিতে গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক জরুরি সফরে উপস্থিত হওয়ার কথা। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোল্যান্ডে তার উপস্থিত হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে হোয়াইট হাউজ সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পোল্যান্ডে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী পোলিশ একটি শহরে যাওয়ার কথা রয়েছে বাইডেনের। সেখানে তিনি ইউক্রেন থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের সঙ্গে দেখা করবেন।

পোল্যান্ডে যাওয়ার আগে তিনি ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো, জি-৭ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন। বৈঠক থেকে রাশিয়ার ওপর ফের নিষেধাজ্ঞা ও জি-২০ থেকে রাশিয়াকে বাদ দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। জো বাইডেন হুঁশিয়ারি জানিয়ে বলেছেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে তাহলে ন্যাটো জবাব দিতে বাধ্য হবে। ব্রাসেলসে ন্যাটো ও জি-৭’র জরুরি সম্মেলনের পর তিনি এই মন্তব্য করেন। বাইডেন জানান, যেকোনো পাল্টা পদক্ষেপ হবে সমানুপাতিক। তবে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেননি। ন্যাটো কী করবে জানতে চাইলে বাইডেন বলেন, আমরা জবাব দেব। পুতিন যদি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেন তাহলে আমরা জবাব দেব। জবাবের ধরন নির্ভর করবে এর ব্যবহারের ওপর।

নিজ দেশের রাজনীতিতে খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই বাইডেন। তারপরও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে বেশ কয়েকটি দেশে কূটনৈতিক মিশনে পাঠিয়েছিলেন তিনি। সেই মিশনগুলোতে যে কমলা শতভাগ সফল হয়েছেন, এমনটা বলা যাবে না। এই সফলতা না পাওয়ার কারণেই কি পোল্যান্ডে বাইডেনকে সশরীরে যেতে হয়েছে, এমন প্রশ্ন অনেক বিশ্লেষকের।

আজ ইউক্রেন যে বাস্তবতার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে তার কয়েকগুণ নির্মমতার ভেতর দিয়ে পোল্যান্ড গেছে বিংশ শতাব্দীতে। একাধিক বিদেশি শাসক পোল্যান্ডকে শাসন করার চেষ্টা করেছেন। ফলে দেশটির লাখ লাখ মানুষকে বিভিন্ন দেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। সেই পোল্যান্ড ফের সংকটে। দেশটিতে ইতিমধ্যেই ২০ লাখের বেশি ইউক্রেনীয় আশ্রয় নিয়েছেন। টানা কয়েক দশক মস্কোর কমিউনিস্ট শাসনে ছিল পোল্যান্ড। ফলে ঐতিহাসিক কারণেই পোলিশরা রাশিয়ার যেকোনো পদক্ষেপকে সোজাভাবে নেন না।

পোল্যান্ডে এখন যুক্তরাষ্ট্রের ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি সেনা অবস্থান করছে। ন্যাটো ও বাইডেন প্রশাসন মনে করে, রাশিয়া যদি তার বিশেষ অভিযান ইউক্রেনের বাইরে পরিচালিত করে, সেক্ষেত্রে প্রথম দেশ হবে পোল্যান্ড। তাই দেশটিতে ব্যাপক সৈন্য সমাবেশ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল বাইডেন যখন পোল্যান্ড পৌঁছান, প্রথমেই তিনি তার সেনাদের সঙ্গে দেখা করেন। সেখান থেকে ইউক্রেন সীমান্তবর্তী একটি শহরে যান তিনি। পোল্যান্ডের সঙ্গে আমেরিকা বা আমেরিকান প্রেসিডেন্টদের রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। রোনাল্ড রিগ্যান থেকে জর্জ ডব্লিউ বুশ, ক্লিনটন, ওবামাকেও পোল্যান্ড যেতে দেখা গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইউরোপের পূর্বাঞ্চলে ন্যাটোর সম্প্রসারণ প্রশ্নে ওয়াশিংটনের কাছে পোল্যান্ড অনেক গুরুত্বপূর্ণ। দেশটিতে চলমান রুশবিরোধী চেতনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক। রাশিয়ার সঙ্গে কখনো যুক্তরাষ্ট্রের সাংঘর্ষিক অবস্থা শুরু হলে, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি হবে পোল্যান্ড।

তবে বাল্টিক অঞ্চলের কয়েকজন বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষক মনে করেন, পোল্যান্ডের উচিত ছিল সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের মতো নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকা। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে দেশটি স্বাভাবিক নিয়মেই রাশিয়ার চক্ষুশূল। আবার ওয়াশিংটনের পক্ষ নেওয়ায় প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বিপুল খরচ মেটানো ছাড়াও ওয়াশিংটনের অনেক অন্যায্য যুদ্ধেও জড়িয়ে পড়তে হচ্ছে পোল্যান্ডকে। পোল্যান্ডে একাধিকবার সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। আর ওই হামলাগুলোর একটাই কারণ, দেশটির সেনারা যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে আফগানিস্তান-ইরাক-সিরিয়ায় লড়াই করছে।