ব্যাংকের তুলনায় ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) ঋণ ও আমানতের সুদহার অনেক বেশি। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এই উচ্চ সুদহার কমিয়ে তা যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় পরিচালকরা এ সিদ্ধান্ত নেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুদহার যৌক্তিকীকরণে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। এ ছাড়া রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) আওতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে বিদ্যমান ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের সুদহার ১৯ থেকে ২০ শতাংশ। এই হার ১৩ থেকে ১৪ শতাংশে নামিয়ে আনা হতে পারে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে দ্রুত নির্দেশনা জারি করা হবে।
এর আগে ২০২০ সালের ১ এপ্রিল থেকে ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদহারের সর্বোচ্চ সীমা ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভঙ্গুর পরিস্থিতি বিবেচনায় সুদহারের সীমা ঠিক করে না দিলেও ব্যাংকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সুদহার কমাতে বলা হয়েছিল। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরাও তখন পর্যায়ক্রমে ঋণের সুদহার কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এখনো আমানতের গড় সুদই রয়েছে ৯ শতাংশের বেশি।
আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট আমানতের অর্ধেকের বেশি আসে বিভিন্ন ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠান থেকে। তবে অনেক প্রতিষ্ঠান টাকা ফেরত দিতে না পারায় আস্থাহীনতার কারণে সাধারণ আমানতকারীদের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও টাকা রাখতে চাচ্ছে না। যে কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের আমানত না বেড়ে উল্টো কমে যাচ্ছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, পরিচালনা পর্ষদে বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজশাহী অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক মো. সাইদুল ইসলাম তাহেরের দুর্নীতির অভিযোগে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে তা কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্টে ঋণতথ্য গোপন করার অভিযোগে আরোপিত জরিমানা মওকুফ ও পদ্মা ব্যাংকের বিধিবদ্ধ জমার হার (এসএলআর) সংরক্ষণ পুনর্নির্ধারণ বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।