ঢাকার সাভারের চাঞ্চল্যকর ক্লু-লেস সাকিব (১৭) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে মূল পরিকল্পনাকারী এবং প্রধান আসামি ইমনকে (১৮) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৪ এর সদস্যরা।
সোমবার দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৪ এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান।
পাওনা ৬০০ হাজার টাকা ফেরত চাওয়ায় পরিকল্পিতভাবে আসামিরা সাকিবকে হত্যা করেন বলে র্যাব জানিয়েছে।
এর আগে, রবিবার দুপুরে সাভারের নগর কোন্ডা এলাকা থেকে ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মো. ইমন দেওয়ান বনগাঁওয়ের পশ্চিম কোটাপাড়া গ্রামের মৃত মোহম্মদ আলীর ছেলে।
নিহত সাকিব বনগাঁওয়ের পশ্চিম কোটাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আমিনবাজারের একটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন এবং লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি চাকরিও করতেন।
র্যাব -৪ জানায়, সাকিব গত ১৭ মার্চ রাতে নিখোঁজ হন। পরে গত ২৬ মার্চ ২০২২ তারিখ সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের একটি নির্মাণাধীন একতলা ভবনের সেপটিক ট্যাংক থেকে সাকিবের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। যার প্রেক্ষিতে র্যাব-৪ পুলিশের পাশাপাশি ছায়াতদন্ত শুরু করে।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনটি বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে মোবাইলটি গাবতলী থেকে এক ব্যক্তির কাছ হতে উদ্ধার করা হয়। উক্ত ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের সন্দেহের ভিত্তিতে র্যাব-৪ এর একটি গোয়েন্দা দল সাকিবের কয়েকজন বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে উক্ত হত্যার সঙ্গে জড়িত আসামিদের সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এরই ধারাবাহিকতায় ২৭ মার্চ দুপুরে সময় একটি আভিযানিক দল চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত সাকিব হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনপূর্বক হত্যাকারী ইমনকে সাভারের নগরকোন্ডা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামি ইমন উক্ত হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। সে জানায়, তারা তিনজন বন্ধু মিলে গত ১৭ মার্চ ভিকটিম’কে ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যার কারণ অনুসন্ধানে জানা যায় যে, আসামি মো. ইমন ও মো. পিয়াসের কাছে ৬০০০ টাকা পাওনা ছিল ভুক্তভোগী সাকিবের।
ভুক্তভোগী বেশ কিছুদিন ধরে আসামিদের তার পাওনা টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। কিন্তু আসামিরা ভুক্তভোগীকে টাকা ফেরত না দিয়ে তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে।
পূর্ব পরিকল্পনা অনুয়ায়ী ১৭ মার্চ মো. ইমন ফোন কলের মাধ্যমে ভিকটিমকে তার পাওনা টাকা প্রদানের কথা বলে সাভারের নগরকোন্ডা এলাকায় নিয়ে আসে। তারপর সাকিবকে নির্জন একটি নির্মাণাধীন একতলা বিল্ডিংয়ের কাছে নিয়ে দুইটি ধারালো ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করে। পরবর্তীতে তারা লাশ গুমের উদ্দেশ্যে মৃতদেহটি উক্ত নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে ফেলে ঢাকনা বন্ধ করে দেয়।
র্যাব-৪ এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান জানান, গ্রেপ্তার আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য সাভার মডেল থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়া উক্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।