রাজশাহী অঞ্চলে খরা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় জমিতে সেচ নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। খরার কারণে গভীর নলকূপে ঠিকভাবে পানি উঠছে না। অন্যদিকে প্রচন্ড রোদে জমি শুকিয়ে যাওয়ায় পানির চাহিদা বেড়েছে। গভীর নলকূপগুলোতে পানির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে কৃষকদের।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এখন বোরো চাষের ভরা মৌসুম। জমিতে প্রতিনিয়ত পানির প্রয়োজন। দুই-তিন দিনেই জমি শুকিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে রাজশাহীতে তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকছে। একসঙ্গে সবার জমিতে পানির দরকার হওয়ায় গভীর নলকূপগুলোতে পানি দিতে অপারেটরদের হিমশিম অবস্থা। কৃষকদের পর্যায়ক্রমে পানি নিতে হচ্ছে। পানির জন্য দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে অপারেটরদের পেছনে। এ নিয়ে কোনো কোনো এলাকায় কৃষকদের সঙ্গে অপারেটরদের বাগ্বিতন্ডাও হচ্ছে।
ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল রাজশাহী অঞ্চলের কৃষি। ব্যাপকহারে এ পানি ব্যবহারের ফলে প্রতি বছরই এখানকার পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় এ বছর ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এ মৌসুমে বেশিরভাগ জমিতেই গভীর নলকূপ থেকে সেচ দেওয়া হচ্ছে। আমন মৌসুমে এ অঞ্চলে ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হয়। তবে পানি স্বল্পতার কারণে বোরো আবাদের জমি কমে ৬৫ হাজার হেক্টরে দাঁড়ায়।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) তথ্যমতে, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে তাদের ১৬ হাজার গভীর নলকূপের মাধ্যমে জমিতে সেচ দেওয়া হয়। রাজশাহী জেলাতেই আছে ২ হাজার ৮২৬টি গভীর নলকূপ।
গ্রীষ্ম মৌসুমে পানির সংকট দেখা দেয়। কৃষকদের অভিযোগ, সেই সময়ে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অনেক নলকূপ অপারেটর ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সেচের পানির জন্য দিনের পর দিন ঘোরাতে থাকে। এ সময় স্থানীয় প্রভাবশালীদের জমিতে পানি গেলেও ক্ষুদ্র কৃষকরা হয়ে পড়েন অসহায়।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেল বলেন, এখন পানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের পর্যায়ক্রমে পানি নিতে হচ্ছে। কয়েক দিন অপেক্ষা করা ছাড়া পানি মিলছে না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর অতিরিক্ত উপপরিচালক তৌহিদুর রহমান বলেন, এ মৌসুমে পানির চাহিদা বেশি থাকে। তবে এখনো মাঠে সংকট দেখা দেওয়ার কোনো খবর নেই।
পবা উপজেলার দুলাল মাহবুব বলেন, প্রতি বছরই এ সময়ে পানির চাহিদা বাড়ে। কারণ একদিকে জমি শুকিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে এখন গভীর নলকূপে পানি কম ওঠে। এ কারণে এক বিঘা জমিতে আগে পানি দিতে যে সময় লাগত এখন তার চেয়ে বেশি লাগে। এ কারণে আমাদের পর্যায়ক্রমে পানি দিতে হচ্ছে। তবে কোনো কোনো এলাকায় জমির মালিকরা নলকূপ অপারেটরদের সঙ্গে চুক্তি করে নেন। পবা উপজেলার
কৃষক নুরুল আমিন বলেন, আমরা প্রতি বিঘা জমির জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা মৌসুম হিসাবে পানি নিই। যা পানি লাগবে অপারেটর দেবে। চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত পানির কোনো সংকট হয়নি।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক আবদুর রশিদ বলেন, এ মৌসুমটাকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়। অপারেটররা যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি করতে না পারে সেসব দিকেও নজরদারি থাকে। এ সময়ে পানির চাহিদা বাড়ে। আবার নলকূপগুলোতে পানি ওঠেও কিছুটা কম। এ কারণে সংকটটা একটু বেশি মনে হয়। তবে পানির অভাবে যাতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হন, জমির ফসল মরে না যায়Ñ আমাদের কাছে সেটি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এখন খরা পড়ছে। তবে এ পর্যন্ত অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। কৃষকদের সিরিয়াল মেনে পানি নিতে হচ্ছে।