যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে হ্যান্ডলিং শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন পুলিশ সদস্য অন্তত ২০ জন। কয়েক ঘণ্টার ওই সংঘর্ষে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দে বন্দর এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে, ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। বন্দর, কাস্টমসসহ আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে আমদানি-রপ্তানি কর্যক্রম।
বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা জানান, বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন নিয়ে শ্রমিকদের দুই পক্ষের বিরোধ দীর্ঘদিনের। একটি পক্ষের নেতৃত্ব দেন বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগ নেতা ওয়াহিদুজ্জামান এবং অন্য পক্ষের নেতৃত্ব দেন বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর রাশেদ আলী। ওয়াহিদুজ্জামান পক্ষের সমর্থন দেন এমপি আফিল উদ্দিন। রাশেদ পক্ষের সমর্থন দেন পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন।
শ্রমিকরা জানান, গতকাল বেলা ১১টার দিকে বেনাপোল পৌর কাউন্সিলর রাশেদের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল বন্দরের সামনে আসে। তখন উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে বোমা বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।
অহেদুজ্জামান বলেন, সকালে শ্রমিকরা কার্যালয়ে অবস্থান করার সময় রাশেদের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িতে গিয়ে অতর্কিতে বোমা হামলা চালান। এ সময় শ্রমিকরা কার্যালয়ে আটকা পড়েন। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে তারা কার্যালয় থেকে বের হয়ে হামলাকারীদের ধাওয়া দেন।
অভিযোগের বিষয়ে পৌরসভার কাউন্সিলর রাশেদ আলীকে একাধিকবার কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। যে কারণে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন খান জানান, খবর পেয়ে বেনাপোল বন্দর এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে আটক করা হয়েছে।
গতকাল বিকেলে বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক মামুন তরফদার জানান, হ্যান্ডলিং শ্রমিকদের সৃষ্ট গোলযোগের কারণে সকাল থেকে বন্দরের লোড আনলোড কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।