এ আর রহমানের সুরের মূর্ছনায় মুগ্ধ দর্শক

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম এতদিন কেবল ক্রিকেটেই মুগ্ধ থেকেছে। এবার সুরের জাদুতে তন্ময় হলো। গানের জাদুকর এ আর রহমান হারমোনিয়ামে সুর তুললেন। সঙ্গত করলেন তার পারিষদরা। সাত সুরের মূর্ছনা ময়ূরের পেখম ছড়ানোর মতো করে ছড়িয়ে পড়ল রাতের আকাশে। শুরু করলেন ‘জয় হো’ দিয়ে। এরপর ‘মুককালা মোকাবেলা’র  চিরচেনা মেলোডি। পরে ‘ওলেও... ওলে ও ও’। যেন সুরের সোপান পঙ্ক্তি ভেঙে ভেঙে অমরাবতী রচনা করলেন স্রষ্টা। উপমহাদেশের মোৎজার্টে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল মঙ্গলবার ‘ক্রিকেট সেলিব্রেটস মুজিব হান্ড্রেড’ কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃষ্টির ছন্দপতন বাদ দিলে অনুষ্ঠানকে সর্বাঙ্গ সুন্দর বলতে হবে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রুমানা মালিক মুনমুনের সঞ্চালনায় শুরু হয় কনসার্ট। এরপর পারফর্ম করে ব্যান্ডদল মাইলস। আসেন মমতাজ বেগম। মাঝে বৃষ্টি নামে। রাত সাড়ে ৮টায় কনসার্টে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর আসার পরপরই শুরু হয় জাতীয় সংগীত। বিসিবির প্রেসিডেন্ট বক্সে বসে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন তিনি। রাতে সব আকর্ষণ কেন্দ্রীভূত হয় এ আর রহমানকে ঘিরে। প্রায় ২০০ শিল্পী নিয়ে সংগীতানুষ্ঠান পরিবেশন করেন তিনি। প্রায় হাজার ১৫ দর্শক মুগ্ধ হয়ে শুনেছেন সেই অনুষ্ঠান। যারা মাঠে ঢুকেছিলেন দশ হাজার, পাঁচ হাজার, এক হাজার বাংলাদেশি মুদ্রার বিনিময়ে। পয়সা যে উসুল হয়েছে তা তাদের চোখমুখের অভিব্যক্তি দেখেই বোঝা যাচ্ছিল। 

অনুষ্ঠানে এ আর রহমান ছাড়াও বেনি দয়ালের কণ্ঠে শোনা যায় ‘রাঙদে বাসন্তি’। এরপরই সবাইকে নস্টালজিক করে হরিহরণ গাইতে শুরু করেন ‘সপনে’ ছবির ‘চান্দারে চান্দারে’। এখানেই শেষ নয়। বেজে ওঠে ‘দিল সে রে...’। রহমানের কণ্ঠে দর্শকরা গলা মেলান ‘প্রিয়া প্রিয়া জিয়া জিয়া’র সুরে। তখনো কনসার্টে বম্বে সিনেমার বিখ্যাত গান ‘তুহি রে’ গাওয়া হয়নি। হরিহরণ যখন গেয়ে উঠলেন সেই গান তখন আক্ষরিক অর্থেই দর্শকদের পাগল হওয়ার জোগাড়।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে গীতিকবি জুলফিকার রাসেলের লেখা একটি গানও তৈরি করেছেন এ আর রহমান। কনসার্টে সেটিও গেয়েছেন তিনি। রুমানা মালিক মুনমুনের সঞ্চালনায় এ কনসার্ট বিকেলে শুরু হয়ে চলে মধ্যরাত পর্যন্ত। গতকাল মেয়েকে নিয়ে মঞ্চে আসেন ফোক সম্রাজ্ঞী মমতাজ। ‘পাঙ্খা’ ও ‘লোকাল বাস’ গেয়ে উদ্বেলিত করেন দর্শকদের। অতঃপর সব আলো কেড়ে নেন এ আর রহমান। তার জাদুকণ্ঠের সামনে শুধু মিরপুর নয়, টেলিভিশনের সামনে গোটা বাংলাদেশ যে মুগ্ধ শ্রোতা হয়ে বসেছিল।