অফিসে চা খেলেও বেতনের টাকায় কিনে খেতে হবে: দুদক

দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান বলেছেন, অফিসের একটি টাকাও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে না, চা খেলে সেটাও নিজের বেতনের টাকা দিয়ে কিনে খেতে হবে। সরকারের প্রতিটি বরাদ্দ জনগণের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে হবে।

বুধবার সকাল ১০টায় মাদারীপুর শহরের শকুনি লেক পাড়ে অবস্থিত সমন্বিত সরকারি অফিস ভবনে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত মাদারীপুর  জেলা কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দুদক কমিশনার বলেন, জাপানে কোনো দুর্নীতি দমন কমিশন নেই, কারণ সেখানকার মানুষ জানেই না দুর্নীতি বা ঘুষ কি জিনিস। বাংলাদেশের প্রতিটি স্তরে স্তরে নানা রকম অনিয়ম হচ্ছে। এসব কারণেই এত টাকা বরাদ্দের পরেও দেশে এখনো নানা সংকট। সকলকেই সাবধান থাকতে হবে। কারণ দুর্নীতি দমন আইন মামলায় পড়লে ১০ বছরেও তার নিষ্পত্তি হয় না।

ড. মোজাম্মেল হক খান বলেন, মাদারীপুরে এখন অনেক বড় বড় প্রকল্প হচ্ছে। পদ্মা সেতু হওয়ার পরে পুরো জেলার চিত্রই পাল্টে যাবে। সরকার কোটি কোটি টাকা এখানে বরাদ্দ দিচ্ছে। তাই এখানে একটি আঞ্চলিক কার্যালয় জরুরি হয়ে পড়েছিল। মাদারীপুরে দুদকের কার্যক্রম যেন দুর্নীতিবাজদের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠে।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন এর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, দুদক ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. আক্তার হোসেন, দুদক-এর মহাপরিচালক (আইসিটি ও প্রশিক্ষণ) এ কে এম সোহেল, দুদক ঢাকার মহাপরিচালক (তদন্ত-১) মো. রেজানুর রহমান, শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মো. পারভেজ হাসান, মাদারীপুরের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল ও শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার এস. এম. আশরাফুজ্জামান।

প্রসঙ্গত, শরীয়তপুর ও মাদারীপুর দুই জেলায় কার্যক্রম চলবে এই সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে। মাদারীপুর শহরের লেকেরপাড়ে অবস্থিত সমন্বিত সরকারি অফিস ভবনের দশতলায় স্থাপন করা হয়েছে এই অফিস।