প্রথম লেগ জিতে বিশ্বকাপে খেলার আশা জিইয়ে রেখেছিল মিসর। তবে দ্বিতীয় লেগে আর সেনেগালের সঙ্গে পেরে উঠল না মোহামেদ সালাহর দল। টাইব্রেকারে সালাহ নিজেই শট মিস করেছেন। বিপরীতে তার লিভারপুল সতীর্থ সাদিও মানে জয়নিশ্চিতসূচক গোল করে সেনেগালকে তৃতীয়বারের মতো চূড়ান্তপর্বে তুলেছেন। আফ্রিকা থেকে তাদের সঙ্গী হয়েছে- ঘানা, ক্যামেরুন, মরক্কো, তিউনিসিয়া।
আফ্রিকান নেশন্স কাপ হোক কিংবা বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব, গোল করার চেয়ে গোল হজম না করাতেই যেন বেশি মনোযোগ ছিল মিসরের। তাতে ফলও মিলছিল। ৪ গোল করে আফ্রিকান নেশন্স কাপ ফাইনালে চলে গিয়েছিলেন সালাহরা। সে কৌশল গতকালও কাজে দিলে বর্তে যেত সালাহরা। তবে তা আর হয়নি। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে মিসর রক্ষণের ভুলে হজম করে বসে গোল। তাতে প্রথম লেগে পাওয়া ১ গোলের সুবিধাটা উবে যায় দলটির। উজ্জীবিত সেনেগাল একের পর এক আক্রমণ শানিয়েছে এরপর। আর মিসর তা আটকে গেছে বারবার। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মতো অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও গোলের দেখা পায়নি দলটি। খেলা গড়ায় শুটআউটে। সেখানে প্রথম শট নিতে গিয়ে মিস করে ক্রসবারে লাগায় সেনেগাল। এরপরই সালাহর শট উড়ে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। সেই সঙ্গে মিসরের আশা ফিকে হয়ে যায়। দ্বিতীয় ও চতুর্থ শটে মিসর গোল করলেও, সেনেগাল পরপর তিন শটে গোল করে ডাকারের নবনির্মিত স্টাডে মে আব্দুলাই ওয়াদে স্টেডিয়ামে উৎসবে মাতিয়ে তোলেন। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট কাটল সেনেগাল। ১৯৯৪ থেকে আর্জেন্টিনার নিয়মিত গ্রুপসঙ্গী নাইজেরিয়া ১৬ বছর পর আবার বিশ্বকাপ চূড়ান্তপর্বে উঠতে ব্যর্থ হলো। ২০১০ থেকে টানা তিনবার, এর আগে ১৯৯৪ ও ২০০২ বিশ্বকাপে সুপার ঈগলখ্যাত নাইজেরিয়া ২০০৬-এর চূড়ান্তপর্বে খেলতে পারেনি। তেমনটি আবার ঘটল। ঘানার মাঠে গোলশূন্য ড্রর পর আবুজায় নিজেদের মাঠে দ্বিতীয় লেগটিও ১-১ গোলে ড্র করে তারা। তবে ২২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে উইলিয়াম ট্রুস্ট-একংয়ের অ্যাওয়ে গোলটি শেল হয়ে বিঁধে ঘানাইয়ানদের বুকে। ইন্টারনেট
প্রথম লেগে ১-০ গোলে জয়ী আশরাফ হাকিমিদের মরক্কো দ্বিতীয় লেগে ৪-১ গোলে কঙ্গো প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে ষষ্ঠবারের মতো চূড়ান্তপর্বে উঠেছে। ষষ্ঠবারের মতো চূড়ান্তপর্বে উঠেছে তিউনিসিয়াও। তারা হারিয়েছে মালিকে ১-০ গোল। আর রিয়াদ মাহরেজের আলজেরিয়াকে পেছনে ফেলে সপ্তমবারের মতো ফাইনালসে উঠেছে ক্যামেরুন।