পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে যাওয়ার আগেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। গতকাল বুধবার ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের জোটসঙ্গী মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট-পাকিস্তান (এমকিউএম-পি) বিরোধী দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) সঙ্গে হাত মিলিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দ্য হিন্দু। পিটিআই নেতৃত্বাধীন জোটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এমকিউএম-পি’র। দলটির বিরোধী শিবিরে যোগদানের খবরে পাকিস্তানের রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য ডন ও এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
ডনের প্রতিবেদন বলছে, প্রাথমিকভাবে খাজা আসিফ, শেরি রেহমান, নাভিদ কামার, আয়াজ সাদিক, আখতার মেঙ্গাল, সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলি শাহ এবং অন্যদের সমন্বয়ে বিরোধীদের একটি প্রতিনিধিদল গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে পাকিস্তানের সংসদ লজে পৌঁছান। সেখানে তারা এমকিউএম আহ্বায়ক ডা. খালিদ মকবুল সিদ্দিকী এবং অন্য নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। এর কিছুক্ষণ পর, বিরোধী নেতাদের প্রধান আসিফ আলি জারদারি এবং তার ছেলে বিলাওয়াল, মাওলানা ফজলুর রহমান এবং শেহবাজ শরিফও সরকারি মিত্রকে পক্ষ পরিবর্তন করতে রাজি করানোর জন্য অনুষ্ঠানস্থলে যান।
এমকিউএম-পি’র এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানায়, বিরোধীদের সঙ্গে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার পর সমন্বয় কমিটি অনুমোদন দিলেই কেবল এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসবে। রাতভর ওই বৈঠকের পর এমকিউএম-পি’র সাত সদস্য বিরোধীদের নিয়ে করা এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পিটিআই জোট ত্যাগের ঘোষণা আসে। এমকিউএম-পি প্রধান মকবুল সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সহনশীলতা ও প্রকৃত গণতন্ত্রের রাজনীতির নতুন সূচনা করতে চাই। পার্লামেন্টে আমি বিরোধীদের সমর্থন দেওয়ার কথা ঘোষণা করছি। প্রধানমন্ত্রীর উচিত পদত্যাগের মাধ্যমে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা।’ পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেন, এমকিউএম-পি’র সমর্থন তাদের জন্য বড় খবর। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এখন পদত্যাগ করা ছাড়া উপায় নেই। পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খুব জলদিই শেহবাজ শরিফ নির্বাচিত হবেন।’
অনাস্থা প্রস্তাবের বিরুদ্ধে জয় পেতে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ৩৪২টি ভোটের মধ্যে ১৭২টি দরকার ইমরান খানের। এমকিউএম-পি’র পক্ষত্যাগের ফলে অনাস্থা ভোটে এখন ইমরানের হার অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বলা হচ্ছে, ইমরান খানের পর পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) প্রেসিডেন্ট ও নেতা শেহবাজ শরিফ।
এদিকে পিটিআই জোটের আরেক সঙ্গী বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টির (বিএপি) পাঁচ এমপি ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভোট দিতে বিরোধীদের আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তবে তারা ইমরান খানের বিরুদ্ধে ভোট দেবেন কি না তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।