সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শ্রীলঙ্কার সাধারণ মানুষ দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভের একপর্যায়ে প্রেসিডেন্টের বাসভবনে হামলার চেষ্টা করলে আন্দোলনকারীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। গত বৃহস্পতিবার রাতের এই ঘটনার পর শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে কারফিউ জারি করে পুলিশ। পরে গতকাল শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে কারফিউ প্রত্যাহার করা হয় বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে শ্রীলঙ্কার পুলিশের মহাপরিদর্শক সিডি বিক্রমরতে্ন বলেন, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত কলম্বোর বেশিরভাগ জেলায় কারফিউ চলবে। তবে এনডিটিভি বলছে, শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে কারফিউ প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানী কলম্বোর মিরিহানা জেলায় প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসের ব্যক্তিগত বাসভবনের সামনে থাকা ব্যারিকেড সরিয়ে সামনে এগোনোর সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন শত শত বিক্ষোভকারী। এ সময় বিক্ষোভকারীদের অনেকে ‘ঘরে ফিরে যাও গোতা!’ এবং ‘গোতা একজন স্বৈরশাসক’ বলে সে্লাগান দেয়। মূলত পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষের পরই কারফিউ জারির পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সংঘর্ষের পর প্রকাশ্যে আসা বেশ কয়েকটি ভিডিওতে একটি পুলিশ বাসে আগুন জ্বলতে এবং বিক্ষোভকারীদেরকে আহত রক্তাক্ত এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে দেখা যায়। অবশ্য পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষের সময় প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে তার বাসভবনে ছিলেন কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়। এছাড়া পুলিশের একজন মুখপাত্র এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে এই ঘটনায় ৪৫ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
ভয়ংকর আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। ফুরিয়ে এসেছে জ্বালানি তেলও। গত এক সপ্তাহ ধরে এই কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে দাঁতে দাঁত চেপে লড়লেও বৃহস্পতিবার ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে শ্রীলঙ্কাবাসীর। প্রায় ৫ হাজারেও বেশি মানুষ রাজধানীতে দেশের প্রেসিডেন্টের বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এখনই পদত্যাগ করা উচিত প্রেসিডেন্টের। বিক্ষোভ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আশপাশের পরিস্থিতিও। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাধ্য হয়ে প্যারামিলিটারি পুলিশ বাহিনী, স্পেশাল টাস্কফোর্সকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়।
১৯৪৮ সালের পর এই প্রথম এমন চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী, কিছুই মিলছে না। জ্বালানি থেকে রান্নার গ্যাস, হু হু করে বাড়ছে সবকিছুরই দাম। বৃহস্পতিবারই জানানো হয় শ্রীলঙ্কায় ডিজেল শেষ হয়ে গেছে। অতি সামান্য পরিমাণ পেট্রোল থাকলেও তা দিয়ে আর এক সপ্তাহ কাজ চালানো যাবে। ডিজেল শেষ হয়ে যাওয়ার ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই রাস্তা থেকে উধাও হয়ে যায় সব গণপরিবহন। অন্ধকারে ডুবে যায় গোটা দেশ। প্রায় ১৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। লোডশেডিংয়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে দেশের হাসপাতালগুলোতেই। সেখানে ইতিমধ্যেই বিদ্যুতের অভাবে অস্ত্রোপচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ চিকিৎসাসেবাও।