নদী দখল করে বন কর্মকর্তার বহুতল ভবন নির্মাণ

পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ড’র (পাউবো) জায়গায় চলছে বন কর্মকর্তা আবদুস ছালামের বহুতল ভবন নির্মাণকাজ।

শুধু তাই নয়, পাশেই বহমান আড়পাঙ্গাসিয়া নদীর ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল কেটে নদী দখল করেও হচ্ছে এ নির্মাণকাজ।

স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সদ্য বিদায়ী কলাপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) জগৎবন্ধু মন্ডল উক্ত নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এ নির্দেশনা উপেক্ষা করেই চলছে নির্মাণকাজ।

অভিযোগ উঠেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্ভেয়ার তরিকুলের নেপথ্য সহায়তায় পুরোদমে চলছে নির্মাণকাজ।

ভূমি অফিস সূত্র জানায়, কলাপাড়ার বন কর্মকর্তা আবদুস সালাম উক্ত ০.০৭০৫ একর জমি রেকর্ডিং বলে দাবি করেন। তার ২য় স্ত্রী তাছলিমা আক্তার, শ্যালক শাহআলম এর নামে ক্রয় করেন মর্মেও দাবি করেন। যা বাস্তবে হাল বিএস ৬ নং জেএল খেপুপাড়া মৌজা ৭নং খতিয়ানের ১৫০৯নং দাগে সরকার পক্ষে পাউবো’র নামে রেকর্ড। উক্ত মৌজার বিএস ১নং খতিয়ানের ১৫০১নং দাগের শ্রেণি নদী।

অভিযুক্ত বন কর্মকর্তা আ. ছালাম তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাসস্ট্যান্ড চৌরাস্তা এলাকার নির্মাণাধীন ভবন তার শ্যালকের, এখানে তার কোনো ভূমিকা নেই।

কলাপাড়া সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (চ.দা.) মো. আল-কাইউম বলেন, বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আড়পাঙ্গাসিয়া নদী তীরে বন কর্মকর্তার বহুতল ভবন নির্মাণকাজ সদ্য বিদায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্যার বন্ধ করে দিয়েছেন। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে আইনি ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

পাউবো’র জায়গায় নির্মিত ও নির্মাণাধীন অবৈধ স্থাপনার তালিকা তৈরি ও উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে পাউবো, কলাপাড়া জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী আবেদন করার কথা বলেন।