সাফল্যের সঙ্গে ৯ বছর পার করল চতুর্থ প্রজন্মের এনআরবি কমার্শিয়াল (এনআরবিসি) ব্যাংক। প্রচলিত ধারার ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি মাইক্রোক্রেডিটেও জোর দিচ্ছে ব্যাংকটি। মাইক্রোকেডিটভিত্তিক সেবাকেন্দ্র থেকে চলতি বছরের মার্চে ৮১৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ঋণ পেয়েছেন ২১ হাজার গ্রাহক। এনআরবিসি ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। গতকাল শনিবার রাজধানীর দিলকুশায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
২০১৩ সালের ২ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে বেসরকারি খাতের এনআরবিসি ব্যাংক। এরপর থেকে ৯ বছরে ব্যাংকটি ১১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। ২০২১ সাল শেষে এনআরবিসি ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা।
মুনাফার দিক দিয়েও এগিয়েছে এনআরবিসি ব্যাংক। ২০২১ সালে ব্যাংকটি ৪৪৩ কোটি টাকা মুনাফা করেছে।
ধারাবাহিক সাফল্যের কারণ সম্পর্কে এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান তমাল এস এম পারভেজ বলেন, দক্ষ জনবল বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের মানসম্মত ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে আসছি। শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ জনপদে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করেছে ব্যাংকটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীরা। এরই ধারাবাহিকতায় চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে এনআরবিসি ব্যাংক দ্রুত সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ব্যাংকের উদ্যোক্তারা জানান, উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডের কারণে এনআরবিসি ব্যাংক সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের নেতৃত্বে তারা সবাই একতাবদ্ধ। কার্যকরী নেতৃত্বের মাধ্যমে ব্যাংকটি আরও বহুদূর এগিয়ে যাবেÑ এমনটাই প্রত্যাশা করছেন তারা। এনআরবিসি ব্যাংক সূত্র জানায়, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ব্যাংক খাতে প্রথম উপশাখাভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করে এনআরবিসি। ব্যাংকটির মোট উপশাখার সংখ্যা ৭৫০টি। সরকারের রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা আনতে রেজিস্ট্রেশন অফিসেও উপশাখা স্থাপন করেছে ব্যাংকটি। এ ধরনের উপশাখার সংখ্যা ২৮৭টি।
২০২১ সাল শেষে এনআরবিসি ব্যাংকের হিসাবধারীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮ লাখ ৩১ হাজার। বর্তমানে ব্যাংকটির স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন ৬ হাজার। চেকবই ও ক্রেডিট কার্ড ছাড়াই অর্থ লেনদেনের প্রথম কিউআর কোট চালু করে এই ব্যাংক।
উৎপাদনমুখী শিল্পের বিকাশে আগামী দিনগুলোতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে অর্থায়ন সম্প্রসারণের জোর দিচ্ছে ব্যাংকটির শীর্ষ ব্যবস্থাপনা কর্র্তৃপক্ষ। বর্তমানে ব্যাংকটির এসএমই ও রিটেইল খাতে বিনিয়োগ ৪০ শতাংশ। ভবিষ্যতে এই বিনিয়োগ ৫০ শতাংশে উন্নীত করতে চান তারা।
ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম আউলিয়া জানান, বর্তমানে ব্যাংকটির ৯৩টি শাখা থেকে সেবা দেওয়ার পাশাপাশি ৫৯০টি এজেন্ট আউটলেট থেকে সেবা নিতে পারছেন এর গ্রাহকরা। এ ছাড়া দেশব্যাপী প্রায় ৮০টি এটিএম বুথ ও সিআরএম বুথ থেকে তাৎক্ষণিক ব্যাংকিং সেবা পাচ্ছেন ব্যাংকটির গ্রাহকরা।