পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেল টাঙ্গুয়ার হাওরের ২০০ একর জমির ধান

ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালী বাঁধ ভেঙে পানিতে নিচে তলিয়ে গেছে প্রায় ২০০ একর জমির বোরো ধান। হাওরে ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আগাম বন্যার শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।

শনিবার সকাল ১০ টায় হঠাৎ করে উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগে নির্মিত নজর খালি বাঁধটি ভেঙে যায়। এর ফলে পানির নিচে ডুবে যাওয়া পাকা-আধা পাকা ধান নিয়ে বর্তমানে দিশেহারা স্থানীয় কৃষকেরা।

জানা গেছে, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। শনিবার সকালে সরেজমিনে নজর খালি বাঁধে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় যাদুকাটা ও পাঠলাই নদীতে অস্বাভিক পানি বৃদ্ধির ফলে টাঙ্গুয়া হাওরের নজর খালি বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে পানি ঢুকছে।

স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ আলী শেখ জানান, এ হাওরে ২ বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম। নজর খালি মুখের বাঁধ ভেঙে তার সমস্ত জমির ধান তলিয়ে গেছে। কাঁচা ধানগুলো ঘরে তোলার আগেই আমাদের সব শেষ হয়ে গেল বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শিমুল আহমেদ বলেন, ‘নদীতে পানির অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে শনিবার সকালে হঠাৎ করে নজর খালি মুখের বাঁধটি ভেঙে আট-দশটি গ্রামের কৃষকের অনেক বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নষ্ট হয়েছে।’

তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসান উদ দৌলা বলেন, ‘টাঙ্গুয়া হাওর সংরক্ষিত জলাভূমি হওয়ায় এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আইইউসিএন এর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে বাঁধ নির্মাণ হয়নি। যে বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ করছে সেটি স্থানীয় কৃষকদের নির্মিত।’ 

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হান কবির বলেন, নজর খালি বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প নয়। স্থানীয় কৃষকরা নিজে থেকে এ বাঁধটি নির্মাণ করেছিলেন। নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধটি ভেঙে যায়। আমরা ক্ষতির পরিমাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করব। পরবর্তীতে সরকারি কোন সহযোগিতা এলে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, গত কয়েক দিনে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে বাড়ছে হাওর ও নদীর পানি। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় আরও পানি বৃদ্ধি পেতে পারে তাই কৃষকদের সতর্কবার্তা দিয়ে রাখা হয়েছে। সবাইকে বাঁধ ও ফসলের দিকে নজর রাখতেও বলা হয়েছে।