বাসস্ট্যান্ড দখল নিতে প্রতিমন্ত্রী-মেয়র অনুসারীদের ‘পাল্টাপাল্টি হামলা’

দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল নগরের রুপাতলী বাসস্ট্যান্ড দখল নিয়ে প্রতিমন্ত্রী ও মেয়র অনুসারী দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বাসস্ট্যান্ড দখল নিতে শ্রমিক নেতাদের ওপর ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগও পাওয়া গেছে।

রবিবার দুপুর ১২টার দিকে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম অনুসারী গ্রুপের বাস-মিনিবাস-মাইক্রোবাস-কোচ শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি সুলতান মাহমুদের নিজস্ব কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।

হামলার ঘটনায় বাসস্ট্যান্ডের উভয় পক্ষের ১৫ শ্রমিক আহত হয়েছেন।

হামলার শিকার শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর নির্দেশে ছাত্রলীগের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছে।

হামলায় আহতরা হলেন- প্রতিমন্ত্রীর অনুসারী জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুলতান মাহমুদ, মো. রফিকুল ইসলাম মানিক, রিজন হাওলাদার, শামিম হাওলাদার, বিপ্লব হাওলাদার, সালাম, মিজান, শাওন, ফারুকসহ আরো বেশ কয়েকজন।

মেয়র সাদিকের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রতিমন্ত্রীর অনুসারী জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুলতান মাহমুদ।

তিনি বলেন, আমি আমার শ্রমিক ইউনিয়নের অফিসে বসা ছিলাম হঠাৎ করে মেয়র অনুসারী মান্না, সাজ্জাদ, মুনিম, রাজিবসহ দুই শতাধিক নেতা কর্মী সশস্ত্র আমার ওপর হামলা করে। এতে আমি সহ আমার সঙ্গে থাকা আমার ভাই ও ভাইয়ের ছেলেসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হই। এরা সবাই সিটি মেয়রের কথায় আমার ওপর হামলা চালিয়েছে ও আমার অফিস ভাঙচুর করেছে।’

‘এ সময় অফিসের প্রয়োজনীয় মালামাল আসবাবপত্র চেয়ার-টেবিল ও টিভি ভাঙচুর করে। যা পার্শ্ববর্তী অগ্রণী ব্যাংকের সিসি টিভি ফুটেজ দেখলেই হামলাকারীদের শনাক্ত করা যাবে।’

সুলতান মাহমুদ আরো বলেন, গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও আমরা কেউ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারিনি। হাসপাতালে ভর্তি হলে তারা পুনরায় হামলা চালিয়ে প্রাণে মারতে পারে তাই সবাই বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা কেউ এগিয়ে আসেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড কেন্দ্রিক শ্রমিক ইউনিয়ন দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জাহিদ ফারুক শামীম এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ অনুসারী দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।

এর মধ্যে প্রতিমন্ত্রী গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন একাংশের সুলতান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান সুমন মোল্লা।

আর মেয়র গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অপর অংশের সভাপতি ও মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক পরিমল চন্দ্র দাস এবং সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আহমেদ শাহরিয়ার বাবু, বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুর রহমান মনির মোল্লা।

ইতিপূর্বে শ্রমিক ইউনিয়ন দখল নিয়ে দুই গ্রুপ পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন করেছে। এ নিয়ে একাংশের সভাপতি সুলতান মাহমুদ অনুসারীরা অপর গ্রুপের কমিটি অবৈধ এবং নির্বাচনের মাধ্যমিক নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে আদালতে মামলা করেছেন। মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে সিটি মেয়র অনুসারী বরিশাল জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমি জীবনে কারো গায়ে হাত তুলি নাই। এমনকি কাউকে একটা থাপ্পড় দিইনি। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে শ্রমিকদের নিয়ে একটি মিছিল করে টার্মিনালে অবস্থান নেই। উল্টো আমাদের দুজনের ওপর হামলা চালিয়েছে সুলতান মাহমুদের লোকজন। এতে দুই কর্মী বিপু সিকদার ও কালাম আহত হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা আইনের আশ্রয় নেব।’

রুপাতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় হামলার খবর শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এনামুল হক বলেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। ফলে বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এ ছাড়া হামলার ঘটনায় তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধী যে দলেরই হোক অপরাধ প্রমাণ হলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

পাল্টাপাল্টি হামলা এবং ভাঙচুরের বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিমুল করিম বলেন, রূপাতলীতে দুই পক্ষের মধ্যে একটু উত্তেজনা হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে কি নিয়ে ঘটনা ঘটেছে সেটা এখনো জানা যায়নি।

পুলিশের পক্ষপাতিত্ব এবং নীরব ভূমিকায় থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি বলেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি। তবে কেউ আইনশৃঙ্খলার অবনতি বা বিঘ্নিত করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে বরিশাল নগরের রূপাতলী বাস-মিনিবাস-মাইক্রোবাস-কোচ শ্রমিক ইউনিয়ন দখল নিয়ে প্রতিমন্ত্রী ও মেয়র অনুসারী দুই গ্রুপের মধ্যে গত শনিবারও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।