আমমোক্তারনামায় প্রাপ্ত জমিসংক্রান্ত একটি মামলার লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতির আবেদন) শুনানি ১০ বছরেও শুরু না হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। শুনানির জন্য গতকাল রবিবার ফের সময় চাইলে আপিল বিভাগ উষ্মা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে আদালত বলে, ‘১০ বছরেও একটা মামলার শুনানি করতে পারলেন না। এটা লজ্জার। আমাদের এখানে (এজলাসে) বসে থেকে লাভ কী!’
প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ এ মন্তব্য করে। বেঞ্চের অপর দুই বিচারক হলেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাছান চৌধুরী। অপরপক্ষে ছিলেন আইনজীবী শেখ আওসাফুর রহমান।
মামলার নথি অনুযায়ী, রাজধানীর বড় মগবাজারের প্রায় ০.২৬৪৪ একর জমির মালিক ছিলেন বীরেন্দ্র কুমার নাথ। ১৯৪৫ সালে তিনি এই জমির আমমোক্তারনামা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) দিয়ে যান স্থানীয় সিরাজুল হককে। ১৯৬৬ সালে জমি নিজের নামে নামজারি (মিউটেশন) করেন সিরাজুল হক। দীর্ঘ সময় খাজনা পরিশোধ না করায় ১৯৯৯ সালে জমির খাজনা পেতে মামলা করে সরকার। ওই বছরের জুলাই মাসে খাজনা পরিশোধ করে জমি ভোগদখল করতে থাকেন তিনি ও তার পরিবার। সিরাজ কমান্ডার নামে পরিচিত বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক ২০০৮ সালে মারা যান। পরে ২০০৯ সালের জুন মাসে রমনা ভূমি অফিস এই জমি অধিগ্রহণের জন্য নোটিস পাঠায়। পরে ওই বছরের জুলাইয়ে জমি অধিগ্রহণ করে বিসিএস (প্রশাসন) কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতির নামে বরাদ্দ করে ঢাকা জেলা প্রশাসন। পরে এ বিষয়ে গেজেট জারি করে সিরাজুল হকের পরিবারকে উচ্ছেদ করে প্রশাসন।
জমি অধিগ্রহণের গেজেট চ্যালেঞ্জ করে ২০১০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে রিট আবেদন করে সিরাজুল হকের পরিবার। ২০১১ সালের ২৫ আগস্ট হাইকোর্ট এক রায়ে অধিগ্রহণ অবৈধ ও গেজেট বাতিল ঘোষণা করে। পরের বছর রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।
গতকাল শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, ‘যারা ভিটে থেকে উচ্ছেদ হয়েছেন, তাদের কথা তো ভাবতে হবে। একজনের ভিটেমাটি নিয়ে যাবেন, আমরা তো বসে থাকতে পারি না। তাহলে তো দেশে কোর্ট-কাছারি থাকার দরকার নাই।’
রিটকারী পক্ষের আইনজীবী আওসাফুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আজ সোমবার আবার এ বিষয়ে শুনানির জন্য ধার্য করেছে আদালত। তিনি বলেন, ‘অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে সিরাজ কমান্ডারের পরিবারকে ২ কোটি ৯৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানতে পারেন। কিন্তু এ টাকা তারা পাননি। আবার তাদের রাতের অন্ধকারে ভিটে থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। আমাদের প্রশ্ন, এ টাকা কোথায় গেল?’