পরিশোধিত তেল আমদানি বেড়েছে ৬৫ শতাংশ

চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) ভোজ্য তেল আমদানির ঋণপত্র খোলা ও নিষ্পত্তি দুটোই বেড়েছিল। কিন্তু বাজারে এর প্রতিফলন দেখা যায়নি। উল্টো সংকটের কথা বলে ভোক্তাদের পকেট কাটা হয়। সরবরাহ ঘাটতির কথা বলে বাজারে এই সংকট সৃষ্টির নেপথ্যের কারণ খতিয়ে দেখছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। গত সপ্তাহে ভোজ্য তেল সরবরাহকারী শীর্ষ চার কোম্পানির কাছ থেকে পাওয়া ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হওয়ায় আগামী বুধবার আবারও শুনানি ডেকেছে ভোক্তা অধিদপ্তর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে ভোজ্য তেল আমদানির ঋণপত্র (এলসি) নিষ্পত্তি বেড়েছে ৩৫ দশমিক ১২ শতাংশ। পরিশোধিত ভোজ্য তেল আমদানির ঋণপত্র নিষ্পত্তি বেড়েছে ৬৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। তবে অপরিশোধিত ভোজ্য তেল আমদানি ঋণপত্র নিষ্পত্তি কমেছে ১৩ দশমিক ১১ শতাংশ।

একই সময়ে ভোজ্য তেল আমদানির ঋণপত্র খোলা বেড়েছে ৬৩ শতাংশ। পরিশোধিত ভোজ্য তেল আমদানির ঋণপত্র খোলা বেড়েছে ৯৪ শতাংশ এবং অপরিশোধিত ভোজ্য তেল আমদানি ঋণপত্র খোলা বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ।

আর্থিক মূল্যের তথ্যে দেখা যায়, আলোচিত আট মাসে পরিশোধিত ভোজ্য তেল আমদানির উদ্দেশ্যে ব্যাংকে ১০৬ কোটি ডলারের এলসি খোলা হয়। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় প্রায় ৮০ কোটি ডলারের এলসি। অপরিশোধিত ভোজ্য তেল আমদানির উদ্দেশ্যে ব্যাংকে ৩৫ কোটি ডলারের এলসি খোলা হলেও নিষ্পত্তি হয় ২৬ কোটি ডলারের এলসি। ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই হারে আমদানি ঋণপত্র নিষ্পত্তি বাড়ার পর গত মার্চে বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট হওয়ার কথা নয়। ধারণা করা হয়, সরকার নির্ধারিত মূল্যের থেকেও বাড়তি মূল্য আদায়ের জন্য কৃত্রিম এই সংকট তৈরি করা হয়।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৮ টাকা বাড়িয়ে ১৬৮ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল লিটারে ৭ টাকা বাড়িয়ে ১৪৩ টাকা নির্ধারণ করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ঠিক করা হয় ৭৯৫ টাকা। এর ২০ দিনের মাথায় আবার সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১২ টাকা করে বাড়াতে ভোজ্য তেল  ব্যবসায়ীরা প্রস্তাব দিলেও তাতে সায় দেয়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর পরপরই নির্ধারিত দামের অনেক বেশি দরে তেল বিক্রি করতে দেখা যায় রাজধানীর অনেক দোকানিকে। পাড়া বা মহল্লার দোকানিরাও বাড়তি মুনাফার আশায় দোকান থেকে তেল সরিয়ে অন্যত্র রেখে দেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে বড় বড় তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে নামে ভোক্তা অধিদপ্তর। বাজার তদারকির ফলে অস্তিরতা কমে আসে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে ভ্যাট ও কর ছাড় দেওয়ায় তেলের দাম কমে আসে। সবশেষ গত ২০ মার্চ খুচরা পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৮ টাকা কমিয়ে ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। বোতলজাত ৫ লিটার তেলের দাম ৩৫ টাকা কমে হয়েছে ৭৬০ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের দাম ৭ টাকা কমিয়ে ১৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে আরও দেখা যায়, অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে সব ধরনের পণ্য আমদানির জন্য ৫ হাজার ৯৪৫ কোটি ডলারের এলসি খোলা হয়; যা ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে খোলা এলসির থেকে ৪৯ শতাংশ বেশি।

অর্থবছরের প্রথম আট মাসে নিষ্পত্তি হওয়া এলসির আর্থিক মূল্য ছিল ৫ হাজার ২৬০ কোটি ডলার, যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের নিষ্পত্তি করা এলসির তুলনায় ৫২ শতাংশ বেশি।

তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, আলোচিত আট মাসে গম, চিনি, দুগ্ধজাত পণ্য, ভোজ্য তেল ও ওষুধের এলসি খোলা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এর মধ্যে চিনির এলসি খোলা বেড়েছে ৯৩ শতাংশ, ভোজ্য তেলের এলসি খোলা বেড়েছে ৬৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ, ওষুধ আমদানির এলসি খোলা বেড়েছে ৬২২ শতাংশ, গম আমদানির এলসি খোলা বেড়েছে ৩১ শতাংশ এবং দুগ্ধজাত পণ্য আমদানির এলসি খোল বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ।