মেরিন অ্যাকুরিয়াম স্থাপন জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারে মেরিন অ্যাকুরিয়াম স্থাপন প্রক্রিয়া জোরদার করতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় দেওয়া বক্তব্যে এ নির্দেশনা দেন তিনি। একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণবভন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যোগ দেন।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আজ একনেক সভায় ১২ হাজার ১৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ১২টি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে ৭ হাজার ৯৯০ কোটি ১৪ লাখ টাকা সরকার ব্যয় করবে। বাকি ৫৯৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থায়ন করা হবে এবং বাকি ৩ হাজার ৪৩২ কোটি ৩১ লাখ টাকা প্রকল্প সহায়তা হিসেবে পাওয়া যাবে।’

এ সময় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে মেরিন অ্যাকুরিয়াম স্থাপন প্রক্রিয়া জোরদার করতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন।’

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. কাওসার আহমেদ জানান, প্রধানমন্ত্রী এর আগে কক্সবাজারে একটি মেরিন অ্যাকুরিয়াম স্থাপন প্রক্রিয়া শুরু করতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করা হয় এবং ইতিমধ্যে এর আলোকে ডিপিপি তৈরি করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ডিপিপিতে আরও কিছু সংশোধনের পর, সেটি পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেবে। তিনি বলেন, ‘অ্যাকুরিয়ামটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় হবে এবং দেশের মানুষ এর থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবে।’

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, সভায় প্রধানমন্ত্রী পানিসম্পদ বিভাগকে নদী খনন ও বাঁধ নির্মাণের মতো প্রকল্প আরও দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এডিপি খুব বেশি উন্নয়ন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যেহেতু আওয়ামী লীগ সরকার দেশ চালাচ্ছে, তাই জনগণের প্রতি তার দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। ট্র্যাক রেকর্ড, অভিজ্ঞতা, বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি এবং উন্নয়ন সহযোগীদের মনোভাব বুঝে সরকার তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের মূল লক্ষ্য টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এজন্য সরকার ইতিবাচক ও জোরালোভাবে উন্নয়নের সূচনা করতে চায়। এরই অংশ হিসেবে বেসরকারি খাতকে সরকার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে।’

শ্রীলঙ্কার সর্বশেষ আর্থিক সংকট নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে এমএ মান্নান বলেন, ‘আমাদের সরকার কোনো অপ্রয়োজনীয় কাজ করে না কিংবা কোনো অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করে না। তবে কতিপয় মহল শ্রীলঙ্কার বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশের সঙ্গে মেলানোর চেষ্টা করছে, যা অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক বিবেচনায় মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অর্থনীতির মৌলিক বিষয়গুলোও ভিন্ন। তবে আমরা বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের মতামতে গভীর দৃষ্টি রাখছি। আমি মনে করি শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতির মতো কোনো আশঙ্কা করার যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।’ খবর বাসস।