মৃত্যুদন্ডাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার আগে আসামিকে কারাগারের কনডেম সেলে রাখা কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়েছে উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তদের কনডেমে রাখাসংক্রান্ত জেল কোডের ৯৮০ বিধি কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না রুলে তাও জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির করা রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেয়।
অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে কনডেম সেলে বন্দিদের কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয় তা ছয় মাসের মধ্যে কারা মহাপরিদর্শককে প্রতিবেদন আকারে দিতে বলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, আইন সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ সাতজনকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে থাকা সাতকানিয়ার জিল্লুর রহমান, সিলেট কারাগারে থাকা সুনামগঞ্জের আব্দুল বশির ও কুমিল্লা কারাগারে থাকা খাগড়াছড়ির শাহ আলমের পক্ষে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করা হয়। এ তিনজনের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদন্ড অনুমোদনের আবেদন) ও আপিল হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
অ্যাডভোকেট শিশির মনির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেখা গেছে বিচারিক আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদন্ড হলে তাকে সরাসরি কনডেম সেলে নিয়ে যাওয়া হয়। হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তি হয়ে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষ হতে কমপক্ষে ৬ বছর থেকে ১৪ বছর সময় পার হয়ে যায়। মামলায় কেউ খালাস পান। কারও সাজা কমে যাবজ্জীবন হয়। অথচ তাদের জীবন থেকে অন্তত ১৫-২০ বছর হারিয়ে যাচ্ছে। এখন বছরের পর বছর একজন মানুষ কনডেম সেলে থাকলে তার এবং তার পরিবারের মানসিক ও আর্থিক অবস্থা কেমন হয় সেটি সহজেই অনুমেয়। আদালত আমাদের বক্তব্য শুনে রুল ও আদেশ দিয়েছে।’