নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে এ বছর ৩৯ শিক্ষার্থী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এই ফলাফলে একই কলেজের ৩৯ সহপাঠী মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
চলতি বছরের ১৪ মার্চ নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ পরিদর্শনে এসেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
এ সময় তিনি বলেছিলেন, এই কলেজটি একটি রোল মডেল। কারণ এটির ধারাবাহিক ঈর্ষণীয় ফলাফল রীতিমতো গবেষণার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর এই কলেজ থেকে ২৬৮ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে ২৪৯ জন জিপিএ-৫ পান। আর মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন ৩৯ জন।
সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়া সৈয়দপুর শহরের কাজিপাড়ার নুসরাত জাহান বলেন, করোনাকালে কলেজ অনেক দিন বন্ধ থাকায় ফোনে ও অনলাইনে শিক্ষকেরা আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। নিয়মিত অনলাইন ক্লাস নিয়ে আমাদের সিলেবাস পূর্ণ করেছেন।
শিক্ষার্থী আদুরি তাসফিন ফারজানার বাড়ি রানিরবন্দরে। বাবা সেই ছোটকালে মারা যান। আদুরি এ বছর ভর্তির সুযোগ পেয়েছে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে।
তিনি জানান, বাবার স্বপ্ন ছিল আমি একদিন ডাক্তার হব। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তব রূপ নিতে চলছে। সাফল্যে প্রতিটি ধাপে শিক্ষকদের কঠোর শ্রম রয়েছে। পড়াশোনা শেষ করে আমি একজন মানবিক চিকিৎসক হতে চাই।
অভিভাবক এস এম নুর ইসলাম বলেন, কলেজ থেকে আমাদের নানা রকম নির্দেশনা দেওয়া হতো। যার ফলশ্রুতিতে আমাদের সন্তানরা ভালো ফলাফল করছে ও মেডিকেল ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে।
কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম আহমেদ ফারুক বলেন, কলেজে পাঠদান চলে গ্রিন, ক্লিন, এনজয়েবল ক্লাসরুম লার্নিং পদ্ধতিতে। কলেজের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আমরা এক ধরনের সেতুবন্ধন তৈরি করেছি। ক্লাসরুমেই সম্পূর্ণ পাঠদান করা হয়। শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া আছে বলেই আমরা সফল হতে পেরেছি।
জানা যায়, নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের অতীতে নাম ছিল সরকারি কারিগরি মহাবিদ্যালয় (টেকনিক্যাল কলেজ)। ২০১৯ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নাম পরিবর্তন করে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ নামকরণ করে। কলেজটিতে কেবলমাত্র বিজ্ঞান বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে।
১৯৬৪ সালে দেশের চারটি শিল্পাঞ্চলে টেকনিক্যাল স্কুল গড়ে তোলা হয়েছিল। দেশের সর্ববৃহৎ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার সুবাদে এখানেও গড়ে ওঠে টেকনিক্যাল স্কুল। উদ্দেশ্য ছিল, এখান থেকে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার জন্য দক্ষ, কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষার্থী গড়ে তোলা। পরে ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি কলেজে উন্নীত হয়।