দেশের ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট কোম্পানি ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ ইটালির রাষ্ট্রায়ত্ত মালিকানাধীন কোম্পানি ইটালিয়া ওয়ানবাও-এসিসির তিনটি কম্প্রেসার ব্র্যান্ড কিনছে। নিলামে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ৫০ বছরের পুরনো ইতালীয় ব্র্যান্ড এসিসি, জানুসি ইলেক্ট্রোমেকানিকা অ্যান্ড ভার্ডিচারের ইউনিট কিনেছে। ইউনিটটির মাধ্যমে বছরে ৩২ লাখ ইনভার্টার ও নন-ইনভার্টার কম্প্রেসার উৎপাদন করা সম্ভব হবে। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে এই তথ্য জানিয়েছে কোম্পানিটি। তবে ঠিক কত টাকায় ব্র্যান্ড তিনটি কেনা হচ্ছে, তা জানায়নি ওয়ালটন।
বিশ্বের ৫৭টি দেশে ইটালিয়া ওয়ানবাও-এসিসির কম্প্রেসার ব্র্যান্ড তিনটির ট্রেডমার্ক অনুমোদিত। কারখানা ও ব্র্যান্ড নামের পাশাপাশি কোম্পানির বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের (পেটেন্ট, ডিজাইন ও সফটওয়্যার) মালিকানাও পেয়েছে ওয়ালটন। নতুন ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা যোগ হলে ওয়ালটনের কম্প্রেসার উৎপাদনের সক্ষমতা বেড়ে ৪৮ লাখে উন্নীত হবে। এর ফলে কোম্পানিটির ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর বাজার সম্প্রসারণ সহজ হবে। এ লক্ষ্যে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ইউরোপ-আমেরিকায় সহযোগী কোম্পানি, শাখা অফিস বা মৈত্রী অফিস খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
২০২০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওয়ালটন দেশে ইলেকট্রনিক পণ্যের বাজারের একটি বড় অংশ দখল করে আছে। এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি হয় কোম্পানিটির পণ্য।
২০০৬ সালের ১৭ এপ্রিল প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ। ২০০৮ সালে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু করে কোম্পানিটি। ওয়ালটনের আয়ের বড় অংশ আসে রেফ্রিজারেটর ও এয়ার কন্ডিশনার বিক্রি থেকে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে দেশে রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশন, কম্প্রেসার, টেলিভিশন ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি পণ্য উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রি করে থাকে।
গাজীপুরের চন্দ্রায় প্রায় ৫০ লাখ বর্গফুট আয়তনের বিশাল কারখানা রয়েছে ওয়ালটনের। বর্তমানে বার্ষিক ১৫ লাখ রেফ্রিজারেটর উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে ওয়ালটনের। এছাড়া বার্ষিক ৫০ হাজার এসি ও ১০ লাখ কম্প্রেসার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে দেশীয় এ প্রতিষ্ঠানটির। এর বাইরে প্রায় ৬ লাখ ইউনিট টেলিভিশন ও ৩০ লাখের বেশি গৃহস্থালি পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।