ভারতের চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা আবদুন নূর সজল। সেই অনুভূতি, ব্যস্ততা ও সমসাময়িক বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ
পুরস্কার...
স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘কাগজের মানুষ’-এ অভিনয়ের জন্য ভারতের ‘নেক্সজেন ইন্টারন্যাশনাল শর্টফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২১’ আমাকে সেরা অভিনেতা হিসেবে পুরস্কৃত করেছে। পুরস্কার অবশ্যই খুব আনন্দের এবং সম্মানের। আর দেশের বাইরে থেকে পুরস্কারপ্রাপ্তির আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। কারণ পুরস্কারটা শুধু তখন একজন অভিনেতার নয় বরং পুরস্কারটি দেশের, দেশের মানুষের। আমি কৃতজ্ঞ উৎসব কমিটি, আমার পরিচালক রবিউল সিকদার, চিত্রনাট্যকার মাতিয়া বানু শুকু ও সহশিল্পী সারিকার প্রতি।
কাগজের মানুষ...
‘কাগজের মানুষ’ ভিন্নধর্মী একটি কাজ ছিল। কাজটির জন্য আমরা ভীষণ খেটেছিলাম। আমার চরিত্রটি ছিল একজন পত্রিকা বিক্রেতার। এমন চরিত্র সহসা কপালে জোটে না। একজন পেপার বিক্রেতা ভোরের আলো ফোটার আগেই রাস্তায় নেমে পড়ে। প্রতিদিনের খবরের কাগজ সংগ্রহ করে তা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিলি করে। কাগজ বেঁচে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া ছেলেটি স্বপ্ন দেখে একজন ভালো সাংবাদিক হওয়ার।
নতুন সিনেমা...
গুণী নির্মাতা আবু সাইয়ীদের সঙ্গে বেশ আগে থেকেই ‘সংযোগ’ সিনেমাটি নিয়ে কথা হচ্ছিল। বছর দশেক আগে তার একটি ফিকশনে কাজ করেছিলাম, সেটি এখনো আধুনিক। সাইয়ীদ ভাইয়ের গল্প বলা, ডিরেকশন আমার খুব পছন্দের। তার ‘সংযোগ’ সিনেমায় অভিনয়ের অফার পাওয়ার পর আমি শুধু গল্পটা শুনতে চেয়েছিলাম। গল্প আর চরিত্রটি শুনলাম। ভালো লাগল। এভাবেই কাজ শুরু। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর পাশাপাশি এ সময়ের সমাজ বাস্তবতা নিয়ে এই সিনেমার গল্প। আমি অভিনয় করছি একজন উদ্ভাবকের চরিত্রে। আমি আসলে লাকি যে এ রকম একটি গল্প, চরিত্র আমার কাছে এসেছে। সিনেমাটি তৈরি হচ্ছে গণ-অর্থায়নে। বাংলাদেশে এ ধারণা অনেকটাই নতুন। তবে সারা বিশ্বে তৃণমূলপর্যায় থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সিনেমা তৈরি হচ্ছে। সেগুলো বিশ্বজুড়ে প্রশংসাও পাচ্ছে। আমরা পিছিয়ে থাকব কেন! গণ-অর্থায়নে ‘সংযোগ’-এর মতো একটা সিনেমার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যে সিনেমাটি সামাজিক বার্তা বহন করছে, এটা তো নিশ্চয়ই সম্ভাবনার।
কাজ বাছাই...
কাজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রায়োরিটি পায় সামাজিক বার্তা। সেটার জন্য যে অনেক বড় পরিসরে কাজ করতে হবে, সেটাও আমি বলি না। একটা পরিবারে কিন্তু অনেক রকমের সমস্যা থাকে, একটা সম্পর্কেও সমস্যা থাকে। নাটক বা সিনেমায় সেই সমস্যাগুলোর যদি সমাধানের পথ দেখানো যায়। কিংবা যে দৃষ্টিভঙ্গির ভেতর দিয়ে আমরা এসেছি, সেখান থেকেও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের কোনো জায়গা যদি একটা ফিকশন বা একটা সিনেমার মধ্য দিয়েও বলা যায়; সেটা আমার কাছে মনে হয় অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য। সেই সঙ্গে যে গল্পে মাটির গন্ধ আছে, আমাদের নিজস্ব কালচারের প্রেজেন্টেশন আছে, শ্রমজীবী মানুষের গল্প এসব কাজ আমাকে টানে।