গ্রাহকের করা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের মামলায় ই-কমার্স কোম্পানি ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন। গতকাল বুধবার বিকেল পৌনে ৬টার দিকে তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন কারাগারটির সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন।
তিনি আরও জানান, ঢাকার ধানমন্ডি থানার একটি মামলায় (মামলা নম্বর সিআর-৬৭৪) গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন শামীমা নাসরিন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে তার জামিনের কাগজপত্র গত মঙ্গলবার রাতে কারাগারে আসে। তা যাচাই-বাচাই শেষে গতকাল বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে তাকে কারামুক্ত করা হয়।
শামীমা নাসরিন ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রাসেলের স্ত্রী। গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগের দিন রাতে আরিফ বাকের নামে এক ব্যক্তি রাসেল দম্পতির বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা করেন।
ওই মামলার অভিযোগে বলা হয়, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে অভিযোগকারী আরিফ বাকের ও তার বন্ধুরা গত বছরের মে ও জুন মাসে কিছু পণ্য অর্ডার করেন। পণ্যের অর্ডার বাবদ বিকাশ, নগদ ও সিটি ব্যাংকের কার্ডের মাধ্যমে সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করেন তারা। পণ্যগুলো ৭ থেকে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে ডেলিভারির কথা ছিল। এ ছাড়া নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠান সমপরিমাণ টাকা ফেরত দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল। কিন্তু ওই সময়সীমার মধ্যে পণ্যগুলো ডেলিভারি না পাওয়ায় বহুবার ইভ্যালির কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধিকে ফোন করা হয়। সর্বশেষ ওই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর যোগাযোগ করে অর্ডার করা পণ্যগুলো পাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন বাদী ও তার বন্ধুরা। একপর্যায়ে ইভ্যালি পণ্য সরবরাহ কিংবা টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির ধানম-ির অফিসে যান ভুক্তভোগীরা। এ সময় তারা ইভ্যালির এমডি মোহাম্মদ রাসেলের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে সেখানে থাকা অফিসের কর্মীরা বাদী ও তার বন্ধুদের ওপর উত্তেজিত হয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। একপর্যায়ে অফিসের ভেতরে থাকা ইভ্যালির সিইও রাসেল উত্তেজিত হয়ে তার কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে বাদীসহ অন্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে পণ্য অথবা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
মামলার এজাহারে বাদী আরও বলেন, ইভ্যালির অফিসে তাকে ভয়ভীতি দেখানো, হুমকিসহ দুর্ব্যবহার করা হয়। ফলে তিনি চরম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে দিনযাপন করছেন। এ ছাড়া পণ্যগুলো বুঝে না পাওয়ায় তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।