বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে ব্লিনকেনকে মোমেনের চ্যালেঞ্জ!

বিএনপির নাম না নিয়েই দলটিকে নির্বাচনে আনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনের সঙ্গে আলাপ হয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের। যুক্তরাষ্ট্র সফররত মোমেন স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার ব্লিনকেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন। সেখানে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি উঠে আশে ‘অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচনের বিষয়টিও। তখনই পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন দলটির নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তাদের ‘রাজনীতিতে নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ’ দেন ব্লিনকেনকে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, এর জবাবে ব্লিনকেন বলেছেন, ‘এটি অত্যন্ত ভালো।’

গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবারের ওই বৈঠকে ব্লিনকেনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনে সকল দলই যোগ দেয়, শুধুমাত্র একটি দল যোগ দেয় না। এই পার্টি মিলিটারি দ্বারা তৈরি হয়েছে এবং তারা নির্বাচনে আসে না। আপনার এটা চ্যালেঞ্জ, তাদের রাজনীতিতে নিয়ে আসা।’

আগামী নির্বাচনে সব দল অংশ নেবে বলেও বৈঠকে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ড. মোমেন। একই দিন দেশটির সিনেটর চাক শুমারের কাছেও এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ড. মোমেন বলেন, বৈঠকে আমাদের দেশের আগামী নির্বাচন সম্পর্কে বললাম আমরা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছি। নির্বাচনে সব দলেরই অংশগ্রহণ করা উচিত। বাংলাদেশ ও আওয়ামী লীগের জন্মই রাজনীতি এবং গণতন্ত্রের মধ্য দিয়ে।

এদিকে গতকাল ওয়াশিংটন ডিসিতে সিনেটর ও কংগ্রেসম্যানসহ বেশ কয়েকটি থিঙ্কট্যাঙ্ক বক্তৃতায় বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ড. মোমেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে বাংলাদেশের সদিচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন হাউজ ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সদস্য কংগ্রেসম্যান স্টিভ চ্যাবোটের (আর-ওএইচ) সঙ্গেও দেখা করে একই ধরনের আলোচনা করেন। বৈঠকগুলোতে র‌্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক আয়োজিত কয়েকটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এর মধ্যে রয়েছে ইউনাইটেড স্টেট ইনস্টিটিউট অব পিস (ইউএসআইপি), সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) এবং ন্যাশনাল ব্যুরো অব এশিয়ান রিসার্চ (এনবিআর)।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন ইউএস চেম্বার অব কমার্সের ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সঙ্গে ব্যবসায়িক সহযোগিতার বিষয়ে একটি বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নিয়োজিত ২০টিরও বেশি যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানির নির্বাহীরা যোগ দেন।

ইউএস-বাংলাদেশ সম্পর্কের গুরুত্ব উল্লেখ করে ড. মোমেন বলেন, প্রবৃদ্ধির যে মূল ক্ষেত্র রয়েছে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো বাংলাদেশকে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে টেলিকম অবকাঠামো, ডিজিটাল অর্থনীতি, ওষুধ, নীল অর্থনীতি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, আর্থিক প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল পেমেন্ট খাতেও তারা এগিয়ে আসতে পারে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল রয়েছে। এ ছাড়া তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন সংসদ সদস্য মাহবুব-উল আলম হানিফ ও নাহিম রাজ্জাক এবং পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। ড. মোমেন এ সফরে ফ্লোরিডার মিয়ামিতে বাংলাদেশের নতুন কনস্যুলেট জেনারেলের উদ্বোধন করবেন।