সরকারি কর্মচারী গ্রেপ্তার

সাময়িক বরখাস্তের বিধান অসাংবিধানিক নয় কেন : হাইকোর্ট

ফৌজদারি মামলায় সরকারি কর্মচারীকে গ্রেপ্তার কিংবা হাজতবাসের কারণে সাময়িক বরখাস্তের সরকারি চাকরি বিধিমালার বিধান কেন অসাংবিধানিক হবে না তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত। ফরিদপুরের সদরপুরে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এক শিক্ষকের রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল বুধবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেয়।

শিক্ষা সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ ছয়জনকে ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলেছে হাইকোর্ট।

রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব ও মো. মাজেদুল কাদের। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

আইনজীবীদের তথ্যমতে, সদরপুরের চর চাঁদপুর নব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম এ আজিজ খান মারামারি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সদরপুর থানার ২০১০ সালের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হন। প্রায় তিন মাস  হাজতবাসের পর উচ্চ আদালতের আদেশে জামিনে মুক্তি পান তিনি। মামলায় গ্রেপ্তার ও হাজতবাসের কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ওই ফৌজদারি মামলা চলমান থাকায় তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ এখনো চলমান রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি চাকরি বিধি ১৯৭৩-এর পার্ট-১ বিধি ৭৩ পার্ট-২ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী উল্লেখ করে এ রিট আবেদনটি করেন আজিজ খান। 

ব্যারিস্টার হুমায়ুর কবির পল্লব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালতের বিচারে কোনো ব্যক্তি অপরাধী হিসেবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্দোষ। যদি বিচারের আগেই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় সেটি আইনের মূলনীতি ও সংবিধানের ৪০ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিভাগীয় কোনো কার্যপরিধি গ্রহণ ছাড়া অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত কাউকে সাময়িক বরখাস্ত রাখা নীপিড়নমূলক এবং এটি সংবিধানের ৩১ এবং ৩২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। আমাদের বক্তব্য শুনে আদালত ওই বিধান এবং আজিজ খানের সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তের আইনগত কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুল দিয়েছেন।’