বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে যুক্তরাষ্ট্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রকাশ্যে অনুরোধই প্রমাণ করে যে আওয়ামী লীগই বিদেশিদের কাছে ধরনা দেয়, বিএনপি নয়।’
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দুর্ভাগ্য আমাদের আজকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমেরিকায় গিয়েছেন, সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং ধরনা দিয়েছেন। অনুরোধ করেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য বিএনপিকে নির্বাচনে নিয়ে আসতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যে বক্তব্যগুলো রাখেন, বিএনপি নাকি বিদেশিদের কাছে ধরনা দেয়। আজকে প্রকাশ্যে আমেরিকায় বসে, একেবারে সবার সামনে ধরনা দিচ্ছে। আজকে পরিষ্কার বিদেশিদের কাছে যারা ধরনা দেয় তারা হচ্ছে আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের বন্ধু।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমেরিকার কাছে ধরনা দেওয়ার কোনো দরকার নেই। বাংলাদেশেই প্রথম কাজটি করুন। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করুন। যতগুলো মিথ্যা মামলা রয়েছে তা প্রত্যাহার করুন এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। একই সঙ্গে আপনারা পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। এটা হলো আপনাদের প্রথম কাজ।’
সড়কে নিরাপত্তা দিতে সেতু মন্ত্রণালয় ব্যর্থ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রতিদিন অত্যন্ত ললিত ভাষায় কনফারেন্স করতে থাকেন। কিন্তু তার মন্ত্রণালয় সবচেয়ে বেশি ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হয়েছে ঢাকা শহরসহ সারা দেশে সড়কে নিরাপত্তা দিতে।’
জাগপার সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।
‘ইশরাক আওয়ামী প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির শিকার’ : ইশরাককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অবৈধ ক্ষমতা হারানোর ভয়ে আওয়ামী নিষ্ঠুর সরকার এখন বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনের মতো একজন প্রতিবাদী বলিষ্ঠ তরুণের সাহসী ভূমিকায় সরকার ভীত। তাই ইশরাক আওয়ামী প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির শিকার হলেন।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশের জনগণ এবং আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে এ সরকার ক্রুদ্ধ হয়ে উঠেছে আর এ ভয়ংকর ক্রুদ্ধতার বিষাক্ত ছোবল গিয়ে পড়ছে বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর। সেজন্যই দেশে আইনের শাসনের বদলে আওয়ামী শাসনের এক বীভৎস বিকৃত রূপ ফুলেফেঁপে উঠেছে। শাসকগোষ্ঠী দেশে এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার সৃষ্টি করেছে। এ শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা থেকে উত্তরণে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’