রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রনীতির মতো নীতিগত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি উমর আতা বান্দিয়াল। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার কাসিম শাহ সুরির খারিজ করে দেওয়ার বৈধতার বিষয়টি নিয়েই কেবল সিদ্ধান্ত দেবে সর্বোচ্চ আদালত।
ডন জানায়, অনাস্থা প্রস্তাব খারিজের বিষয়ে গত মঙ্গলবার শুনানিতে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) কৌঁসুলি মাকদুম আলি খানের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। অনাস্থা প্রস্তাবকে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সরকার উৎখাতে ‘বিদেশি ষড়যন্ত্রের’ অংশ এবং সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক আখ্যা দিয়ে তা নাকচ করে দেন ডেপুটি স্পিকার। অনাস্থা প্রস্তাব নাকচের পর এ ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে (সুয়োমোটো) নোটিস গ্রহণ করেন প্রধান বিচারপতি। এরপর এ বিষয়ে শুনানিতে তার নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা হয়।
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি উমর আতা বান্দিয়াল বলেন, নীতিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবেন না তারা। কেবল ডেপুটি স্পিকারের রুলিংয়ের ওপরই গুরুত্ব দেবেন। এর আগে বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিষয়ে গোয়েন্দাপ্রধান থেকে রুদ্ধদ্বার ব্রিফিং নিতে সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি প্রস্তাব দেন পিএমএল-এনের কৌঁসুলি। জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এখন আমরা আইন ও সংবিধানের বিষয়টি দেখছি। আমরা কেবল এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আমরা দেখতে চাইছি, ডেপুটি স্পিকারের দেওয়া রুলিং সর্বোচ্চ আদালত পুনর্বিবেচনা করতে পারে কিনা।’ রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রনীতির মতো নীতিগত বিষয়ে আদালত হস্তক্ষেপ করতে চায় না জানিয়ে উমর আতা বান্দিয়াল বলেন, ‘আমরা নীতিগত বিষয়ে জড়াতে চাই না।’ আদালত কেবল সাংবিধানিক বিষয়টি দেখতে চায় বলে জানান বিচারপতি ইজাজুল আহসানও।
এদিকে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচনের তারিখ প্রস্তাব করতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। গতকাল বুধবার সংবিধানের ২২৪ (২) অনুচ্ছেদের অধীনে এই চিঠি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। নির্বাচন কমিশনকে পাঠানো চিঠিতে প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সংবিধানের ৪৮ (৫) (এ) অনুচ্ছেদ এবং ২২৪ (৫) অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বলেছেন, পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে হবে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সংবিধানে বর্ণিত আদেশ অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার জন্য ২০১৭ সালের নির্বাচন আইনের ৫৭ (১) ধারা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন।’ এর আগে গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সূত্রের বরাতে ডন জানায়, বেশ কিছু আইনি এবং পদ্ধতিগত জটিলতায় তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন করতে সক্ষম হবে না কমিশন।