মুন্সীগঞ্জে নিখোঁজের দুই দিন পর ধলেশ^রী নদী থেকে দুই বন্ধুর লাশ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মিরকাদিম কাঠপট্টি লঞ্চঘাটসংলগ্ন নদী থেকে রিয়াম হোসেনের (১৭) ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়। এর ঘণ্টাখানেক পরই নদীর নয়গাঁও এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় আলমগীর হোসেনের (১৮) লাশ।
নিহত রিয়াম হোসেন ভোলার চরটিটিয়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। তারা মিরকাদিম পৌরসভার মস্তান বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে থাকত। আর আলমগীর হোসেন পঞ্চসার ইউনিয়নের গোসাইবাগ গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে।
নিহতদের স্বজনরা জানান, গত সোমবার রাত থেকে তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। আলমগীর হোসেনের ভাই মো. হাসান বলেন, সোমবার বেলা ২টার দিকে রুবেল, রনি, পারভেজ ও রিয়াম বাসা থেকে আলমগীরকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে বিকেলে রুবেল ও পারভেজ এসে জানায়, আলমগীর তাদের ফোন ও নগদ ৭০০ টাকা নিয়ে পালিয়েছে। তখন আমরাও আলমগীরের খোঁজ শুরু করি। এর মধ্যেই রাতে ৮-১০ জন যুবক এসে আলমগীরের খোঁজ করে। কারণ জনতে চাইলে তাদের মধ্য থেকে একজন বলেন, পরে জানতে পারবেন। হাসান বলেন, আমার ধারণা, তাদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্বের জের ধরেই আমার ভাইকে নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়েছে।
আলমগীরের মামা মোহাম্মদ হোসেন বলেন, সোমবার আমার ভাগিনাকে ওর বন্ধুরা বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। কমলাঘাট এলাকায় নেশা করেছে। এরপর আমার ভাগিনাকে পানিতে ফেলে মেরে ফেলেছে। আগেও ভাগিনাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
মুক্তারপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ লুৎফর রহমান জানান, স্থানীয়দের কাছ খবর পেয়ে ধলেশ^রী নদীতে ভাসমান অবস্থায় দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, আমরা শুনেছি, পাঁচ বন্ধু মিলে একত্রে নেশাজাতীয় দ্রব্য খেয়ে নদীতে নেমেছিল। তাদের মধ্যে তিনজন উঠলেও দুজন নিখোঁজ ছিল। উদ্ধার করার পর দুই তরুণের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সদর থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, এ ঘটনায় দুজন আটক আছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়াটার্স) মো. আদিবুল ইসলাম জানান, দুই বন্ধু নিখোঁজের ঘটনায় তাদের দুই বন্ধু রুবেল ও রনিকে আটক করে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা একসঙ্গে মাদক সেবনের কথা স্বীকার করেছে।