সড়ক নির্মাণে ‘অনিয়মের’ সংবাদ প্রকাশ

মেহেরপুরে সাংবাদিক পেটালেন যুবলীগ নেতা

মেহেরপুরের গাংনীতে এক সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মেহেরপুর জেলা পরিষদের সদস্য ও গাংনী উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ঠিকাদার মজিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সাংবাদিক মাসুদ রানার ভাষ্য, সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় তাকে গতকাল বুধবার সকালে গাংনী শহরে নিজের অফিস কক্ষে আটকে মারধর করেন ঠিকাদার মজিরুল। তবে এই যুবলীগ নেতার দাবি, মারধর নয়, সাংবাদিক মাসুদ রানাকে তিনি হুমকিধমকি ও গালিগালাজ করেছেন।

ভুক্তভোগী মাসুদ রানা অনলাইন নিউজপোর্টাল গাংনী সময় টিভিতে কর্মরত। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গাংনীর ২ নম্বর তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের করমদী পাগলা ব্রিজ থেকে দুর্লভপুর পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। এলাকাবাসীর কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে সেখানে গিয়ে সড়ক নির্মাণে এক নম্বর ইটের বদলে অতি নিম্নমানের ইট এবং বালির বদলে মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দেখতে পাই। এ সময় এলাকাবাসী নির্মাণকাজ বন্ধ করাসহ রাস্তাটি নিয়ম অনুযায়ী করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর বক্তব্যসহ নির্মাণকাজের ধারণ করা ভিডিওচিত্র প্রতিবেদন আকারে প্রচার হলে ঠিকাদার ও যুবলীগ নেতা মজিরুল ইসলাম উত্তেজিত হয়ে আমাকে নিজ অফিসে ডেকে পাঠান। সেখানে গেলে আমাকে ঘরের মধ্যে আটকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন ওই ঘরে মজিরুলের সঙ্গে তার আরও কয়েকজন লোক ছিল। মজিরুল প্রথমে আমাকে চড়-থাপ্পড় ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে তার লোকজন নানাভাবে হেনস্তা করে। আমি হেনস্তার ঘটনা সহকর্মীদের জানালেও প্রাণভয়ে পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ করিনি।

মাসুদ রানাকে নির্যাতনের দৃশ্যের ভিডিও ক্লিপ এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মেহেরপুর জেলা পরিষদের সদস্য ও গাংনী উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ঠিকাদার মজিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ইন্টারভিউ না নিয়ে কেন আমার কাজের সংবাদ প্রচার করা হলো সেটাই জানতে সাংবাদিককে আমার অফিসে ডাকা হয়েছিল। এ সময় তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ সেখানে অনেকেই ছিল। আমি ওই সাংবাদিককে হুমকিধমকি দিয়েছি, গালিগালাজ করেছি। তবে ঘর আটকে তাকে মারধর করিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘কাজে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তার ছবি এনে আমার কাছে অভিযোগ করতে পারত। কিন্তু সেটা না করে সংবাদ প্রকাশ করাটা সাংবাদিকের ঠিক হয়নি।’

গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘সড়কের নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছেÑ এমন একটি সংবাদ প্রকাশের কারণে এক সাংবাদিককে ঠিকাদার মারধর করেছে বলে শুনেছি। কাজে অনিয়ম প্রমাণিত হলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’