রুশ বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার ক্রেমলিনের

ইউক্রেনে বিশেষ অভিযান চালানোর পর প্রথমবারের মতো নিজেদের পক্ষে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি ও অর্থনীতিতে নিষেধাজ্ঞার মারাত্মক প্রভাবের কথা স্বীকার করেছে রাশিয়া। ডনবাসে বড় একটি আক্রমণের আশঙ্কায় ইউক্রেনীয়রা যখন তাদের লোকজনকে সরিয়ে নিচ্ছে সেই সময় ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এমন স্বীকারোক্তি এলো বলে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

এর আগে রাশিয়া স্বীকার করেছিল, তারা যত দ্রুত চেয়েছিল তাদের আক্রমণ সেভাবে এগোয়নি আর বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ভারাক্রান্ত মনে বাড়তে থাকা মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছেন। স্কাই নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমাদের সেনাদের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমাদের জন্য এটি বিশাল শোচনীয় একটি ঘটনা।’ দেশটির প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন বলেছেন, পশ্চিমাদের নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া তিন দশক ধরে সবচেয়ে কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। ইউক্রেনে ছয় সপ্তাহ ধরে চলা রাশিয়ার সামরিক অভিযানের কারণে দেশটি থেকে ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ অন্য দেশে পালিয়ে গেছে, কয়েক হাজার মানুষ হতাহত হয়েছে, শহরগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আর এর জেরে রাশিয়ার নেতাদের ও কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ‘চলমান মানবাধিকার ও মানবিক সংকটে গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করে রাশিয়াকে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে বরখাস্ত করে। রাশিয়া তখন কাউন্সিল থেকে বের হয়ে যায়।  যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস রাশিয়াকে তাদের ‘সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত জাতির’ বাণিজ্যিক মর্যাদা থেকে বাদ দিয়েছে এবং ওয়াশিংটন রাশিয়ার যুদ্ধ সরঞ্জামে ঘাটতি তৈরির লক্ষ্য নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত একটি জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এবং একটি হীরার খনিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে।

এদিকে পূর্ব ইউক্রেনের একটি ট্রেন স্টেশনে রাশিয়া রকেট হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার এই হামলায় অন্তত ৩৯ জন নিহত এবং আরও ৮৭ জন আহত হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেল কোম্পানি দাবি করেছে, ওই স্টেশনটি ব্যবহার করে মানুষ সরে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। রেল কোম্পানি জানিয়েছে, রুশ বোমাবর্ষণে আক্রান্ত এলাকা থেকে বেসামরিক মানুষরা সরে যেতে ক্রমাট্রস্ক শহরের রেল স্টেশন ব্যবহার করছিল। সে সময় রাশিয়ার দুটি রকেট স্টেশনে আঘাত হানে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ক্রমাট্রস্ক রেলওয়ে স্টেশনে দুইটি রকেট আঘাত হেনেছে।’ পরে আরেক বিবৃতিতে কোম্পানিটি জানায়, ‘প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী ক্রামাট্রস্ক রেলওয়ে স্টেশনে রকেট হামলায় ৩০ জনের বেশি নিহত এবং আহত হয়েছে শতাধিক মানুষ।’ স্বাধীনভাবে এসব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া রকেট হামলা এবং হতাহত নিয়ে রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে বেসামরিকদের ওপর হামলার কথা অস্বীকার করে আসছে মস্কো।

দনেৎস্ক অঞ্চলের গভর্নর পাভলো কাইরিলেনকো বলেছেন, রকেট হামলার সময় ট্রেন স্টেশনে হাজার হাজার মানুষ ছিল। তিনি বলেন, ‘রাশিস্টরা (রুশ ফ্যাসিস্ট) খুব ভালো করেই জানত তারা কোথায় লক্ষ্য করছে আর তারা কী চায়। তারা আশঙ্কা আর ভীতি ছড়িয়ে দিতে চায়, তারা আমাদের যত বেশি সম্ভব বেসামরিক নিয়ে যেতে চায়।’

ইউক্রেনের বুচা শহরে বেসামরিকদের হত্যাকাণ্ডকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করে এর ব্যাপক নিন্দা করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। এর প্রতিক্রিয়ায় মস্কোর বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে। রাশিয়ার তেল-গ্যাস কেনা বন্ধ করতে ও কিয়েভের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউক্রেন। কিন্তু রাশিয়ার তেল-গ্যাস আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ নিয়ে ইউরোপ বিভক্ত হয়ে পড়েছে।