চট্টগ্রাম বন্দর থেকে স্বাভাবিক সময়ে গড়ে প্রতিদিন চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টিইইউস কন্টেইনার ডেলিভারি হয়ে থাকে। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে হঠাৎ কমে গেছে কন্টেইনার ডেলিভারির পরিমাণ। এর ফলে প্রচুর এলসিএল কন্টেইনার জমে আছে বন্দর ইয়ার্ড জুড়ে। এতে বন্দর অভ্যন্তরে অপারেশনাল কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় দ্রত এসব কন্টেইনার ডেলিভারি নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের তাগাদা দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। অন্যথায় ১১ এপ্রিল থেকে নির্ধারিত হারের চারগুণ বেশি স্টোর রেন্ট আরোপের ঘোষণা দিয়েছে বন্দর। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) এনামুল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বন্দরের বিভিন্ন শেড ও সিএফএসসমূহে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আমদানিকৃত এলসিএল কন্টেইনার আন-স্টাফিং এর পরে দীর্ঘসময় অতিবাহিত হলেও বিভিন্ন আমদানিকারকরা কর্তৃক মালামাল খালাস না নেওয়ার কারণে শেড/সিএফএসসমূহে স্থান সংকুলানের অভাবে নতুন এলসিএল কন্টেইনার আন-স্টাফিং বিলম্ব হচ্ছে। তাই বন্দরের স্বাভাবিক অপারেশনাল কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে আমদানিকারকদের এলসিএল কার্গো দ্রুত ডেলিভারি নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা ১০ এপ্রিল পর্যন্ত পরিস্থিতি দেখব। এরপরও যদি উন্নতি না হয় তাহলে ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে চারগুণ স্টোর রেন্ট আরোপ করতে আমরা বাধ্য হব।
বন্দর সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহ ধরে তুলনামূলকভাবে কম ডেলিভারি হওয়ার কারণে বন্দরে কন্টেইনারের পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের ৪৯ হাজার ১৮ টিইইউস কন্টেইনারের ধারণ ক্ষমতার বিপরীতে বর্তমানে ৩৬ হাজার ৬২১ টিইইউস কন্টেইনার রয়েছে বিভিন্ন ইয়ার্ডে। স্বাভাবিকভাবে যেখান বন্দর থেকে দিনে চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টিইইউস কন্টেইনার ডেলিভারি হওয়ার কথা সেখানে তা নেমে এসেছে সাড়ে তিন হাজার টিইইউসে। ট্রাফিক বিভাগের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি মাসের প্রথম সাত দিনে বন্দর থেকে মোট কন্টেইনার ডেলিভারি হয়েছে ২৬ হাজার ৩৬৩ টিইইউস। এর মধ্যে ১ এপ্রিল ২৮৬৩ টিইইউস, ২ এপ্রিল ২৮০৪, ৩ এপ্রিল ২৩৬৪ টিইইউস, ৪ এপ্রিল ৩৩৭২ টিইইউস, ৫ এপ্রিল ৩৪১১ টিইইউস, ৬ এপ্রিল ৩৬২৬ টিইইউস ও ৭ এপ্রিল ৩৯২৩ টিইইউস কন্টেইনার ডেলিভারি হয়।
সূত্র জানায়, বন্দরের ট্রাফিক বিভাগ থেকে আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে জারি করা এক নোটিসে বলা হয়েছে, ১০ এপ্রিলের মধ্যে এলসিএল কার্গো ডেলিভারির পরিমাণ আশানুরূপ বৃদ্ধি না পেলে ১১ এপ্রিল থেকে আমদানিকৃত এলসিএল কার্গোর ক্ষেত্রে আন-স্টাফিং এর পর চার দিন ফ্রি টাইমের পর থেকে রেগুলেশন ফর ওয়ার্কিং অব চিটাগাং পোর্ট (কার্গো অ্যান্ড কন্টেইনার) ২০০১ এর ১৬০ ধারার আলোকে সমস্ত এলসিএল কার্গোর ক্ষেত্রে বন্দরের স্টোর রেন্টের ওপর সø্যাব অনুযায়ী চারগুণ বর্ধিত হারে রেন্ট আরোপে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হবে।